বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সব সময়ই বঞ্চিত হচ্ছে কারণ আমরা একত্রিত না। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদেরা একত্রিত না। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা একত্রিত থাকলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবেই।
নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের শীতলক্ষ্যা কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় মঙ্গলবার ২৫ অক্টোবর রাত ৮টায় চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল এর সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, সংগঠনটির সিনিয়র সহ সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি মঞ্জুরুল হক।
সভায় সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হয়। একটা সময় পাটের ব্যবসার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিখ্যাত ছিল। এই পাটের ব্যবসা নারায়ণগঞ্জ থেকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এখন খুলনার ব্যবসায়ীরা পাটের উপর সিআইপি পায়। আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিত্তরঞ্জন, ঢাকেশ্বরী, বাওয়া, লক্ষ্মী নারায়ণ বন্ধ করে দিয়ে লাখ লাখ শ্রমিককে বেকার করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। এরপর তাদের দিয়ে পেশি শক্তির রাজনীতি করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দেওয়া হয়েছে। যার পরিনামে নারায়ণগঞ্জ একটি সন্ত্রাসের শহর হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন নারায়ণগঞ্জে একটি জুট অ্যাসোসিয়েশন ছিল সেটাকে এখন ডাক্তার খানায় পরিণত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ এখনও এমন একটা শহর যা সারাদেশে আর একটিও নেই। সারাদেশে প্রতি বছর যে পরিমান রপ্তানি আয় হয়ে থাকে জেলা শহর গুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জই প্রথম। আরেকটি জেলা হচ্ছে চট্রগ্রাম। কিন্তু চট্রগ্রামে উন্নয়ন হচ্ছে। আর নারায়ণগঞ্জে আমরা শুধু শুনেই যাচ্ছি শীতলক্ষ্যা সেতু হবে, ডাবল রেললাইন হবে, নীটপল্লী হবে, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। কেন হানিফ ফ্লাইওভারটি যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত এসে থেমে গেছে? কেন সেটা সাইনবোর্ড পর্যন্ত এলো না? কেন নারায়ণগঞ্জ বার বার বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ নারায়ণগঞ্জের মানুষ একত্রিত না। এখানকার রাজনীতিবিদেরা একত্রিত না। পরিস্থিতির কারনে এখন আমাকে রাজনীতিতে আসতে হয়েছে। কিন্তু আমি রাজনীতি বুঝি না। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমরা নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মাঝে কোন রাজনীতি নেই। কোন বিরোধ নেই। আমরা ব্যবসায়ীরা একত্রিত থাকলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তারা যদি আমাদের কাছে সহযোগীতা চান তাহলে জনগনের কল্যাণে উন্নয়ন মূলক কাজে আমরা ব্যবসায়ীরা তাদেরকে অবশ্যই সহযোগীতা করবো। কিন্তু যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে চেয়ারে বসে থাকবেন আর নির্বাচন এলে ব্যবসায়ীদের কাছে হাত পাতবেন সেই দিন ভুলে যান।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, একটা সময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার শুধু নামমাত্র একটি চেম্বার ছিল। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠন। এটি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের মাদার সংগঠন। সকলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চেম্বারের আজ নিজস্ব ভবন হয়েছে। যার আয় থেকে চেম্বারের সামনে অনেক কাজ করার সুযোগ এসেছে। কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার শুধু ৪ অথবা ৫ আসন এলাকা নিয়ে নয়। এটি সমগ্র জেলার সংগঠন। তাই সারা জেলায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রত্যেকটি উপজেলা এলাকায় চেম্বারের ব্রাঞ্চ খুলতে হবে। শুধু ইজিএম আর এজিএম করলেই চলবে না। সকল ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রতি মাসে অত্যন্ত একবার করে বসার ব্যবস্থা করতে হবে সেমিনার করে আলোচনা করতে হবে। কারণ আলোচনাই হচ্ছে সমস্যা সমাধানের একমাত্র সহজ উপায়।
চেম্বারের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান এবং তাদের কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাদার সংগঠন চেম্বার থাকার পরও অনেক জায়গায় নামে বেনামে ব্যবসায়ী সংগঠন জন্ম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বসে আছে। কারো কারো আবার কোন রেজিস্ট্রেশনই নেই। কোথাও আবার একই ব্যবসায়ের একাধিক সংগঠন বানিয়ে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের নতুন নেতৃবৃন্দের প্রতি আমার আহবান থাকবে এই সকল নামে বেনামে সংগঠন গুলো বন্ধ করে নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ীদের একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসাই হোক নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রধান লক্ষ্য এবং দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, চেম্বার থেকে কয়েকটি উপকমিটি করা হোক। যাতে করে নতুন ও তরুণ ব্যবসায়ীরা সহজেই চেম্বারের সদস্যপদ লাভ করতে পারে। ওই সকল উপ কমিটি গুলোর কাজ হবে নতুন সদস্য করতে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সহ সকল কাগজপত্র তৈরি করতে সহযোগীতা করা।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি(অর্থ) জিএম ফারুক, পরিচালক হুমায়ন কবির খান শিল্পী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, লিটন সাহা, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, শামীম আহম্মেদ, আরিফ হোসেন দিপু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা সহ প্রায় ৫ শতাধিক ব্যবসায়ী।
