বিজয় বার্তা ২৩ ডট কম
তেজগাঁও-এ বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত স্টিচওয়াল ও অ্যাপারেল স্টিচের শ্রমিকদের উপর গুলি বর্ষণকারী পুলিশের শাস্তি ও শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাসমূহ বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের মিছিল ও সমাবেশ
তেজগাঁও এ ৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত স্টিচওয়াল ও অ্যাপারেল স্টিচের শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণকারী পুলিশের শাস্তি, শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাসমূহ বাতির করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫ টায় ২ নং রেল গেইটে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, তেজগাঁও এ অবস্থিত স্টিচ ওয়াল ও অ্যাপারেল স্টিচ এর শ্রমিকরা ৪ মাসের বকেয়া বেতন পাবে। বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে ১০/১৫ জন শ্রমিক আহত হয়। মালিক ৪ মাসের বেতন দিচ্ছে না, পুলিশ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আদায়ে ভূমিকা না নিয়ে বরং মালিকের পক্ষ নিয়ে শ্রমিকের ন্যায্য আন্দোলন বানচালের জন্য গুলিবর্ষণ করেছে। অবিলম্বে গুলিবর্ষণকারী পুলিশের শাস্তি, মালিককে গ্রেপ্তার ও শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের দাবি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন করা। বর্তমান শ্রম আইনের ১২, ১৩, ১৪, ২০, ২৩, ২৬, ২৭, ১৭৯, ১৮০ ধারাসহ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সমস্ত ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে। সরকার শ্রম আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে লোক দেখানো সংশোধন হলে শ্রমিকরা মানবে না। অতীতে দেখা গেছে মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ বিজেএমইএ যেভাবে চায় সেভাবে মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে শ্রম আইন সংশোধন হয়েছে। আমরা দাবি করছি বাংলাদেশের সংবিধান, আইএলও কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাকে ভিত্তি ধরে শ্রম আইন সংশোধন করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ণ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবী মানুষ। চাল, তেল, চিনিসহ সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি বাড়ে নাই। অনতিবিলম্বে বাজারদরের সাথে সঙ্গতি বিধান করে নতুন মজুরি কাঠামো করতে হবে। নতুন মজুরি ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত শ্রমিকের চলার জন্য মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ কুনতং অ্যাপারেলসের শ্রমিকদেও বকেয়া প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ, সুপ্রিম স্মার্ট গার্মেন্টসের রিজাইন ও ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পাওনা এবং প্যাপিলন গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবি করেন।

