বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
রানা প্লাজা- বাঁশখালীসহ ভবনধস-অগ্নিকান্ড-গুলি করে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, ২৪ এপ্রিল-কে রাষ্ট্রীয় ভাবে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান করা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুর্নবাসন ও কাজে ফেরার নিশ্চয়তা বিধান করা, রানা প্লাজা ভবনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিক কলোনি ও নিহত শ্রমিকদের স্মরণে শহীদ বেদী নির্মাণ করা এবং করোনা দুর্যোগে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও নগদ সহায়তার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রানা প্লাজা ধসের ৮ বছর পূর্ণ হলো কিন্তু এ থেকে সরকার ও মালিকরা শিক্ষা গ্রহণ করেছে বলে মনে হয় না। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরে প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশে মালিকের অবহেলায় শ্রমিকের আর মৃত্যু হবে না। কিন্তু অগ্নিকা-, বয়লার বিষ্ফোরণের অনেকগুলি ঘটনা এরপরে ঘটেছে, যেখানে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ৮ বছরে রানাপ্লাজা ট্রাজেডির জন্য দায়ী ভবন, গার্মেন্টস মালিক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি লোকজন যারা ওখানে গার্মেন্টস করার অনুমোদন দিয়েছিল কারও শাস্তি হয়নি। শুধুমাত্র বিল্ডিং এর মালিক ছাড়া কেউ জেলখানায় নেই। দাবি ছিল মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আইন করে আজীবন আয়ের সমান করতে হবে। কিন্তু আইন সংশোধন করে কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ২ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করেছে। এত বড় ঘটনার পরে এই ক্ষতিপূরণ যারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা চালিয়ে রাখে তাদের সাথে প্রহসনের সামিল।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখার কাজে নিয়োজিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি ভাতা, করোনা টেষ্ট, টিকা এবং স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, কর্মরত কোন শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হলে কারখানা মালিককে তার চিকিৎসা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করোনার অজুহাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতার কোনরকম কর্তন কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই-শ্রমিক হয়রানি করা হলে লক-ডাউন শ্রমিকদের প্রতিবাদ আন্দোলনকে আটকাতে পারবেনা বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

