বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিএনপির কমিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সন্তানের অন্তর্ভুক্তির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপি কখনো জামায়াত ছাড়তে পারবে না। এরা আদর্শগতভাবে এক ও অভিন্ন।’
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ভবন প্রাঙ্গণে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৬তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, বিএনপির এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে যুদ্ধাপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামির সন্তান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত ও জঙ্গিবাদের লালন-পালনকারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি কখনো জামায়াত ছাড়তে পারবে না। এরা আদর্শগতভাবে এক ও অভিন্ন। তাই বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে ভাবার সময় শেষ হয়ে গেছে।
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে হানিফ বলেন, গুলশানে ১৭ জন বিদেশি নাগরিককে হত্যার মাধ্যমে সরকারকে আঘাত করে সরকার পতনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সঙ্গে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। এ ছাড়াও যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড কারা, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বের হচ্ছে। অচিরেই এই সকল হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হব।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের জন্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘আমাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দূতিয়ালি করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি নাকি বলেছেন জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে তার দল বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে পারে। তিনি আরো বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরোধিতা করলে তিনি সহ্য করবেন না। আবার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরোধীতা করলেও তিনি মানতে রাজি নন।’
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘জনাব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেব, আপনার এই মুক্তিযোদ্ধা (জিয়াউর রহমান) বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার অধিকার ও মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার আত্মাকে পদদলিত করেছেন। আর সেই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর প্রতি আপনার (বঙ্গবীর) এত দরদ কেন?’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনি (কাদের সিদ্দিকী) যদি রাজনীতি করতে চান ন্যায়নীতি ঠিক করেন। মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য আমরা আপানাকে সন্মান জানাতে চাই। কিন্তু এ দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষে কে, বিপক্ষে কে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের দোসর এবং তাদের লালন পালন করছেন, যদি তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলে রাজনীতি করতে চান তাহলে আপনার সম্পর্কে জনগণের কিন্তু অন্যরকম ধারণার সৃষ্টি হবে। আপনার মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলবে।’
হানিফ কাদের সিদ্দিকীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমার অনুরোধ আপনি এই পথে পা দেবেন না। শুধু খবরের শিরোনাম হওয়ার জন্য এ ধরনের খেলা থেকে বিরত থাকবেন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, বিএনপি আজ ঐক্যের ধুয়া তুলে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদকে রক্ষা করতে চায়। কারণ, এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বিএনপি-জামায়াতের সৃষ্টি। তাই তারা ধরা পড়লে বিএনপির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে। এ কারণে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্যই ঐক্যের ধুয়া তুলেছে বিএনপি।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের স্মৃতিচারণ করে হানিফ বলেন, ‘বেগম মুজিব একজন মহীয়সী নারী। তিনি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী হিসেবে জাতির পাশে দাঁড়িয়েছেন বারবার। তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা ছিল। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশে থেকে অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন এবং দুঃসময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম আমিন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ।
