বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিএনপি আর কখনই বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান।
তিনি বলেছেন, ‘যারা বিএনপি করেন আপনারা একটা কথা লিখে রাখেন। আজকের পর আমি মরে যেতে পারি কিংবা আপনারাও মারতে পারেন বা অন্য কেউ মারতে পারে। ভেতরের থেকে মারতে পারে, বাইরে থেকেও মারতে পারে, অনেকেই মারতে পারে। কিন্তু একটি কথা বলে রাখি, আপনারা বিএনপি ক্ষমতায় আর আসবেন না। ক্ষমতার কাছেও আসবেন না, আপনারা এটা মাথায় রাখেন।’
রবিবার (২৭ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর কাউকে কিছু বলি নাই, কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা এটা ফেইস করেছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রজম্ম। জামাত-শিবিরের সেই শক্তিগুলো আবারও বাংলাদেশে অ্যাকটিভ হয়ে গেছে। দেখবেন কথাবার্তার ধরন তাদের বদলায় গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা বলবেন কী করতেছি তাহলে? আপনারা আপনাদের লন্ডনে পলাতক নেতার নির্দেশে মাঠে লাফাচ্ছেন। লাফান কোনো সমস্যা নাই। নারায়ণগঞ্জে যান ওই জগৎবন্ধু মিস্টান্ন ভাণ্ডার, আদর্শ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ মিষ্টির দোকানগুলোর সামনে দেখবেন বড় বড় তাওয়া বসিয়ে রেখেছে। সেখানে যান দেখতে পাবেন। ওই তাওয়া সকালে বেলা চুলায় বসায়।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘চুলায় বসায় কেন? ওই তাওয়াটাকে গরম করার জন্য। গরম হওয়ার পরে এরপর পরোটা মারে এক সেকেন্ড লাগে পরোটা হইতে, ডিম মারে যা মারে সেকেন্ডের মধ্যে হওয়া শুরু করে। মানে যত আইটেম আছে সব ভাজে। বিএনপি আপনারা হলেন তাওয়া। আপনাদের গরম মারতেছে। আপনাদের উপর অন্য মানুষের খেলা হবে যারা জীবনেও বাংলাদেশে নির্বাচনে পাশ করতে পারবে না। এরা খেলতাছে। আপনি তাওয়া হন।’
তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন দুইটা গ্রুপ হয়ে গেছে। একটা আম্মা গ্রুপ আরেকটা ভাইয়া গ্রুপ। ভাইয়ার গ্রুপ চিন্তা করে ২০২৮ সালের নির্বাচন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের চিন্তা করে না। আরে যে মায়ের চিন্তা করে না সে দেশের চিন্তা করে কী করব? মা মরে মরে সেখানে আসে না। আবার বড় বড় কথা। এরা কারা?
শামীম ওসমান বলেন, ‘গত কিছুদিন আগে কী করল, যখন আমি বলছিলাম খেলা হবে? কী করল তারপর এরা? আমার কাছে একটা পরিসংখ্যান আছে। ওরা তিন হাজার ৫৫২টি গাড়ি পুড়িয়েছে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে। ২৯টি রেল পুড়িয়েছে, নয়টি লঞ্চ পুড়িয়েছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে। ছয়টা ভূমি অফিস পুড়িয়েছে। ৭০টি বিভিন্ন সরকারি অফিস তারা পুড়িয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার নামে ৩ হাজার ৩৬ জনের শরীরে আগুন দিয়েছিল। তার মধ্যে ৫০০-এর অধিক মানুষ আগুন পুড়ে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। একই দিনে ৫০০-এর অধিক স্থানে বোমা হামলা করেছিল। আরও অনেক আছে, বলতে সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘কে করেছিল কার নেতৃত্বে করেছিল আমি বললাম না। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কথা বললাম। উনি বয়স্ক মানুষ। কে ওনাদের নেতা? তারেক রহমান। আগে বিএনপির সমাবেশে দেখতাম চেয়ার খালি থাকত একটা। এখন দেখি দুইটা। সমান সমান চেয়ার। আর যোগ্যতাসম্পন্ন লোক নাই? কে উনি? গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।’
ওসমান বলেন, ‘উনি কে? মানিলন্ডারিং মামলায় সাত বছর জেল মামলার আসামি। ওরা বলে দুর্নীতির কথা। মানবতার কথা বলে। দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার আসামি। তারা বলতে পারে, এগুলো সাজানো কথা। তাহলে এফবিআই স্বাক্ষী দিল কেন? ওরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যা করেছে। তারা ক্ষান্ত হয়নি এখনও। কিন্তু জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে একুশবার মারার এটেম্প নিয়েছে ওরা। এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কারণ এই দেশটা আমাদের।’
জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান চন্দন শীলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সদর, বন্দর, সেনারগাও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা।

