বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ী মো. রশিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আদালতপাড়ায় নাসিক ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিহতের ভাই ফয়সাল মিটু বলেন, ঢাকেশ্বরী জামে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে চিহ্নিত সন্ত্রাসী আবু সাঈদের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যদের হামলার শিকার হন তাঁর ভাই। হামলার পর তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ফয়সাল মিটু অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি পাচ্ছেন। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা আশা করছি। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আদালতের কাছে আশা করছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ না হয়।’
ফয়সাল মিটু আরও অভিযোগ করেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে জমি দখল, বাড়িঘর দখল, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে আবু সাঈদের বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। তাঁর দাবি, ভয়ে এলাকার অনেকে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। নিজের কর্মস্থলেও যেতে সমস্যা হচ্ছে। শাহীনের হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে শাহীনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এদিকে আজ প্রধান আসামী আবু সাঈদ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদের আদালতে আত্মসমর্থন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বন্দরের ঢাকেশ্বরী জামে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে শাহীনকে হামলা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ সেলিম, মো. বাবু মিয়া, মো. নিলয় প্রমুখ।

