বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরে গরুর ঘাস না কাটার অপরাধে শাশুড়ির আঙ্গুল কেটে দিয়েছে পুত্রবধু সাফিয়া বেগম। সে তার দেবর দুধ বিক্রেতা ওসমান গনি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। গরুর ঘাষ না কাটায় শাশুড়ির আঙ্গুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর হত্যাকারী ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে। পৈত্তিক সম্পত্তি সিমানা নির্ধারন কেন্দ্র করে ভাবি সাফিয়া,বড় ভাই রুহুল আমিন ওরফে আমিন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ছোট ভাই ওসমান গনিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এলাকাবাসী জানান,উপজেলা ধামগড় ইউপি কামতাল গ্রামের মৃত শহর আলীর তিন ছেলে রফিক, রুহুল আমিন ও ওসমান গনি একই বাড়িতে বসবাস করতেন। মেজো ছেলে রুহুল আমিন পাশ^বর্তি চিড়ইপাড়া গ্রামের পুলিশের তালিকাভূক্ত চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ফজলুল হকের ছোট বোন সাফিয়ার পরকীয়ায় প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে আমিন সাফিয়াকে বিয়ে করে বাড়িতে তুলে নেয়। তার পর থেকে শুরু হয় ভাই ভাই বিবেদ। ভাই-ভাইদের মধ্যে বিভেদে অনাহারে থাকতে হচ্ছিল মা বৃদ্ধা সাফিয়া। স্থানীয় ভাবে বৈঠকে মাকে এক সপ্তাহ করে খাওনোর সিদ্ধান্ত বেধে দেয় স্থানীয়রা। বড় ছেলে রফিক ও ছোট ছেলে ওসমান গনির সাথে মায়ের দিন ভালই চলছিল। কিন্ত আমিনের ঘরে ঘরে খাওয়ার সময় হলেই আমিননের স্ত্রী সাফিয়া বেগম শাশুড়িকে দিয়ে গরুর ঘাষ কাটাতেন। প্রতিদিন সকালে গরুর ঘাষ কাটার পর নাস্তা দিতেন শাশুড়িকে। একদিন গরুর ঘাষ না কেটে খাইতে যাওয়ায় পূত্রবধূ সাফিয়া তার শাশুড়ির কাস্তে দিয়ে আঙ্গল কেটে দেয়। এ ঘটনায় বড় ছেলে রফিকের সঙ্গে রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী সাফিয়ার ঝগড়া হয়েছিল। এরপর আমিন ও তার স্ত্রী সাফিয়া রফিককে মারধর করার পর লজ্জা ঘৃণায় পৈত্তিক ভিটিবাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্রে ছিটকে পড়ে। তারপর থেকেই আমিন তার মায়ের খাওয়া বন্ধ করে দেয়। বৃদ্ধা মা সাফিয়া ছোট ছেলে ওসমান গনির সঙ্গে থাকেন। মেজো ভাই রুহুল আমিন ওরফে আমিন তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের সঙ্গে ওসমান গনির বনিবনা হচ্ছিলনা। এমতস্থায় ২০১৬ সালে ১৬ জানুয়ারী রুহুল আমিন ও ওসমান গনির মধ্যে বাড়ির সিমানা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় ভাবে সালিশ বৈঠক বসে। ওই সালিশ বৈঠকে দুই ভাইয়ের মধ্যে মিমাংসা করে দেন মাতবরা। সালিশে আমিন ও তার স্ত্রী সাফিয়ার নিজের মতো হয়নি বলে এক বছরের সময় নেয় আমিন। এক বছর শেষ হতে না হতেই ছোট ভাই ওসমান গনিকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে হত্যার পরিকল্পনা করে বড় ভাই আমিন ও তার সাফিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে আমিন ও তার স্ত্রী সাফিয়া, তার দুই ছেলে শহিদুল ইসলাম, মিন্টু, মেয়ে রোমানা, সাফিয়ার ফুফাতো ভাই বেনসন সোবান, চাচাতো ভাইপো হানিফা ও বোনপো রাসেলসহ আরও ৩-৪ জন মিলে ওসামন গনিকে নিজ ঘরের সামনে থেকে টেনেহেছড়ে উঠানে ফেলে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে দেয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত ওসমান গনির ৯৩ বছর বয়স মা সাফিয়া জানান, আমার চোঁখের সামনে বড় ছেলে আমিন, তার বউ, তার দুই ছেলে, মেয়ে, সোবান, হানিফ ও রাসেল ছোট ওসমান গনিকে মেরেছে । এর আগেও আমিনের বউ গরুর ঘাষ না কেটে খাইতে যাওয়ায় আঙ্গুল কেটে দেয়। নিহত ওসমান গনির বড় ভাই রফিক জানান, আমিন ও তার বউয়ের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ওই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে সড়ে এসেছি। আর নয় ওসমান গনির মতো আমাকেও প্রান দিতে হতো আমিন ও তার পরিবারের হাতে। বৃদ্ধা মা সাফিয়া এখনও সঠিক বিচার প্রাপ্তির প্রহর গুনছে।

