বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরে চুরির অপবাদে নিরীহ দু’রিকশা চালককে ৩দিন ঘরে আটকে রেখে শিকল দিয়ে বেধে রড ও ডাসা দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ধৃত কথিত মহাজন মহিউদ্দিন(৪৫)কে চালান করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে নির্যাতিত রিকশা চালক মাহফুজের স্ত্রী রোকেয়া বেগমের দায়েরকৃত মামলায় তাকে চালান করা হয়। গত ৪দিন পূর্বে বুরুন্দী এলাকার মৃত রইসউদ্দিনের ছেলে কথিত মহাজন মহিউদ্দিন মিয়ার রিকশা চুরি হয়। ওই চুরির অপবাদ দিয়ে মহিউদ্দিন তার ভাগিনা আরিফসহ অন্যান্যরা মিলে শুক্রবার বিকেলে মাহফুজ ও অপরাপর রিকশা চালক মিন্টুকে প্রথমে গ্যারেজে নিয়ে শিকল দিয়ে বেধে মাথা নিচে পা উপরে দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে বেদম প্রহার করে। রিকশা চালক মাহফুজ ও মিন্টু রিকশা চুরি করেনি বলে কাকুতি মিনতি করার পরও পাষন্ডদের মন গলাতে পারেনি তারা। অবশেষে লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে মাহফুজ ও মিন্টুকে দিনরাত নির্যাতন করে রক্তাক্ত জখম করে। এমনকি ৩দিন ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের স্টীমরোলার চালায় তারা। মহিউদ্দিন বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য এলাকাবাসীর চোখে পড়লেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদের সাহস পায়নি। এ ব্যাপারে মিন্টুর ভাড়া বাড়ির মালিক বৃদ্ধা রহিমা বেগম জানান,চুরির প্রমাণ না পেয়েই্ একজন সাধারণ মানুষের উপর এভাবে নির্যাতন করার কোন যৌক্তিকতা নেই। এর কঠিন বিচার হওয়া দরকার। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহিউদ্দিন মহাজন জানান,৪দিন নয় ৩দিন ধরে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় মোসলেহউদ্দিন মেম্বার ও ইয়ার হোসেন বিচার করে দিবে বলে জানানোর কারণে তাকে আটক করে রাখা হয়। এদিকে নির্যাতিত মাহফুজ ও মিন্টু সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের অমানবিক বর্ণণা দিলেও নির্যাতনকারী মহিউদ্দিন মহাজনের পক্ষে সাফাই গেয়ে মোসলেহউদ্দিন মেম্বার বলেন,নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মোসলেহউদ্দিন মেম্বারের রহস্যজনক আচরণ গোটা এলাকাবাসীর মাঝে নানা সমালোচনার সৃষ্টি করে। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক জামালউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল হতে সফিউদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও পরে মহিউদ্দিনকে থানায় হাজির করা হলে পুলিশ সফিউদ্দিনকে ছেড়ে দেয়।
