বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ক্লু-লেস “অটোচালক মাসুম হাওলাদার” হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন করেছে
র্যাব। এ ঘটনায় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে সদর মডেল থানাধীন ডিআইটি মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ সালাউদ্দিন ওরফে সনি (৩৮) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর কুমারপাড়া এলাকার মোঃ সিদ্দিকের ছেলে।
বিষয়টি আজ বিকেলে নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ এর স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম।
র্যাব এর এই কর্মকর্তা মুনিরুল আলম জানান, গত ৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দর খান বাড়ীর মোড় এলাকা থেকে অটোচালক মাসুম হাওলাদার নিখোঁজ হয়। পরে ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন কুশিয়ারা এলাকা থেকে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় একই দিন নিহতের স্ত্রী মোছাঃ শিরিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব এর এই কর্মকর্তা আরো জানান, ভিকটিম পেশায় একজন অটোচালক। ভিকটিমের স্ত্রী গ্রেপ্তারকৃত আসামীর হোসিয়ারিতে কয়েকমাস আগে কাপড় প্রসেসিং এর কাজ নেয়। কাজের সুবাদে আসামী সনির সাথে ভিকটিমের স্ত্রীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে অল্প সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সম্পর্কের মাস তিনেক যেতেই বিষয়টা জানাজানি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম তার স্ত্রীকে কাজে যেতে নিষেধ করেন এবং এ নিয়ে ভিকটিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো জানান, আসামির হোসিয়ারিতে ভিকটিমের স্ত্রী কাজ বন্ধ করলে আসামী সনি ভিকটিম মাসুমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় এবং আসামী ভিকটিমকে নানা ভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে আসামী ভিকটিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে এবং সেই কাজে আসামী তার অপর সহযোগী রানাকে কাজে লাগায়। পেশায় রানাও একজন অটো চালক। নিখোঁজের দিন রানা ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে যায়। ভিকটিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রানা এবং সনি মোবাইল ফোনে ঘন ঘন যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং যেদিন লাশ পাওয়া যায় সেদিন থেকে রানা এবং সনি একসাথে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী মোঃ সালাউদ্দিন ওরফে সনি এই হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে বন্দর থানায় হন্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে
অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

