বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে একজন মানুষ হিসাবেই হত্যা করেনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে অভিভাবকহীন করে দেয়া। নইলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পরই ৪ নভেম্বর কারাগারে আটক জাতীয় ৪ নেতাকেও কেন হত্যা করা হলো। আর এ হত্যাকান্ডে অনুমোদন দিয়েছিল সেই জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য যখন জিয়াউর রহমানের সাথে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্যে পরামর্শ করেছিল তখন জিয়াউর রহমান তাদের বলেছিলেন, আমরা সিনিয়র অফিসার আমরা এতে জড়িত হতে পারি না,তবে তোমরা যদি পারো এগিয়ে যাও। এতেই প্রমানিত হয় বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমানের অনুমোদন ছিল।
জাতীয় শোক দিবসে বিআইডব্লিটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন(রেজিঃ-বি-১৭০০) আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় বিআইডব্লিটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (বি-১৭০০)এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মহসিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রী এডঃ কামরুল ইসলাম, আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, বিআইডব্লিউটিসি‘র চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান,সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন,সহসভাপতি আল্লামা নেওয়াজ,সহসম্পাদক বাহাউদ্দিন প্রমুখ। এ সময় সংস্থার পরিচালকগনসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রী এডঃ কামরুল ইসলাম বলেন,বিএনপি এখন জঙ্গী,সন্ত্রাসী আর পাপিষ্টদের দলে পরিনত হযেছে আর সেই পাপিষ্ট দলের মহাসচিব হচ্ছেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অনেক চেস্টা করেও এ দলকে গনতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে পারছেন না। তাই তিনি এখন কাঁদতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ একযুগ পরে তার উপলদ্ধি হয়েছে ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলা কলঙ্কজনক অধ্যায়। অথচ এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করতে পারেননি। এখনও বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রাকে থামিয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,অনেকে বলছেন জামাত সঙ্গ ত্যাগ করে আসতে পারলে তাদের সাথে জঙ্গী ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে এক্য হতে পারে। কিন্তু কি দেখা যাচ্ছে ? উল্টো একাত্তরের ঘাতক-দালাল যাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁিসর রায় কার্যকর হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদের বিএনপির ৫০১সদস্য বিশিষ্ট বাজার কমিটিতে ঠাই দিয়ে আবারো প্রমান করেছেন তারা জামাত -শিবিরের মত জঙ্গী আর সন্ত্রাসী সংগঠনকে ছাড়তে পারবেন না। কারন জামাতের গর্ভ থেকেই বিএনপির জন্ম। গর্ভধারিনীকে তারা কিভাবে ছেড়ে আসবেন?
সভাপতির বক্তব্যে বিআইডব্লিউটিসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মহসিন ভূইয়া বলেন, জাতীয় শোককে শক্তিতে পরিণত করে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এর ধারাবাহিকতায় বিআইডব্লিউটিসির উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ জন্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী শ্রমিকদের সুখ-দুঃখের কান্ডারী শাজাহান খানের সাথে বিআইডব্লিউটিসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীরা কাজ করে যাবে।
