বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লা রেল লাইন এলাকার এস বি নিট কম্পোজিটের ডাইংকের ভাড়াটিয়াকে হুমকি ও কর্মচারীদের মারধরের করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রেললাইন এলাকার জনি, ডিপু সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ডাইংকের মালিক পক্ষের সাথে বৈধ চুক্তি থাকা সত্তেও পূর্ব মালিকপক্ষের লোকজন তাদের দিয়ে দখলে নিয়েছে ডাইংটি। এছাড়া ডাইংকের পাশে থাকা মৃত্য ব্যক্তির ৪১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ও ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে এস বি নিট কম্পোজিটের মালিক শাহনাজ পারভীন বলেন, ৫ বছরের বৈধ চুক্তি হয় এ. আর. কম্পোজিট স্বত্ত্বাধিকারী মজিবর রহমান সোহেলের সাথে। কারখানা ভাড়ার চুক্তির পর নানামুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। পূর্বের বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করে মেশিনপত্র বসিয়ে কাজের পরিবেশ করেন তিনি। শাহনাজ পারভীন বলেন, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর মজিবর রহমান সোহেলের মারা যান। এর থেকে তার স্ত্রী রুনু বেগম বিভিন্ন কৌশল করতে থাকে কারখানাটি দখলের জন্য। পরবর্তীতে তার নির্দেশে এই এলাকার আ.মতিনের ছেলে মাইবুবুর রহমান (মামুন), হাজী তৈয়ব আলীর ছেলে জাহেদুর ইসলাম (জনি) ও আ. রশিদের ছেলে মাসুমসহ ১০ থেকে ১৫ জনের সংঘবদ্ধ ভাবে এসে গেটের দারোয়ানকে মারধর ডাইংটি দখল করে নেয়।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও গত ৪ ডিসেম্বর রাতে মাহবুবুর রহমান মামুনের একটি বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের মারধর করে ডাইং থেকে বের করে দেয়। হামলা কারীরা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে। তারা ফ্যাক্টরিতে থাকা সিসিটিভি, ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় প্রশানের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগের বিষয়ে জমির মালিক মৃত মহিউদ্দিনের মেয়ে মনিকা জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের ৪১ শতাংশ জায়গা জনি, দিপু সহ তাদের লোকজন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। আমরা জায়গা যেতে চাইলে তারা বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়। আমরা আমদের জায়গা ফিরে পেতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য কবরি অনুসারী ছিলো জনি। সে সময়ের প্রভাব বিস্তার করে জনি এখনো এলাকায় রাজত্ব করে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জনির মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এস এম আতিকুর রহমান ডিপু জানান, কারখানাটি ভাড়া নিয়েছেন তিনি। কারখানা ও পাশের জমির মালি সোহেল সাহেব। তিনি মারা যাওয়ায় এখন স্ত্রী মালিক হিসেবে আমাদের কাছে ভাড়া দিয়েছে। তারা আমাদের জামানত বুঝিয়ে দিলে আমরা চলে যাবো। এখানে আমাদের কিছুই নেই। ডিপু আরও বলেন, পর্বে যারা ভাড়ায় ছিলো তারা ভাড়া দিতে না পারাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক তাদের কাছে ভাড়া দিয়েছে। ডিপু বলেন, আমরা কাউকে হুমকি বা মারধর করিনি। এই কারখানার বিষয়ে ফতুল্লার ওসি জানেন। তিনি মিমাংসাও করে দিয়েছেন। পুলিশের সাথে কয়েকবার বসা হয়েছে বলে জানান ডিপু।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো.আসলাম হোসেন জানান, মালিক পক্ষ ও ভাড়াটিয়া পক্ষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে জামেলা হয়। এর মধ্যে ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। পুলিশ তাদের নিয়ে বসেছে সেখানে মানবাধিকারের লোকজনও ছিলো। বিষয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দু’ গ্রুপই নারায়ণগঞ্জ চেম্বারঅব কর্মাসের মাধ্যমে সমাধান জন্য সিদান্ত নেয়। ওসি আরও বলেন, যদি কেউ নতুন করে হুমকি ধামকি দেয় পুলিশ তার প্রমান পায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ নতুন এসপির কাছে প্রমানসহ অভিযোগ করতে বলেন যাদের সমস্যা। আশা করিছি আর কোথাও যেতে হবে না তাদের । এসপি বসে সমাধান করে দিবেন।

