বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুট্টা সংগ্রহ ও গুদামজাত করে বিক্রির ব্যবসার কথা বলে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোস্তফা আসাদ (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার আন্দুলবাড়িয়া এলাকার আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তফা আসাদ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আব্দুলবাড়িয়া এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে এবং আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের মালিক। এ ঘটনায় তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস (৬৫) মামলার ১ নম্বর আসামি। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ রাশেদ প্যাসিফিক সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তাঁর কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা দক্ষিণ শান্তিপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা সূত্রে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে আসামিদের আগে থেকেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে আসামিরা ভুট্টা কিনে গুদামজাত করে পরে বিক্রির মাধ্যমে লাভ করার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হয়ে বাদী ২০২৪ সালের ২৪ মে আসামিদের সঙ্গে ‘মৌসুমী ভুট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ করেন।
চুক্তির পর আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে বাদী মোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা পাওনা হলে আসামিরা তা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন। পরে টাকা চাইলে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় বাদী মোহাম্মদ রাশেদ ২৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানায় মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের জন্য অধিগ্রহণের পর তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অপু দে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান। এরপর জীবননগরের আন্দুলবাড়িয়া থেকে মোস্তফা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আদালতের আদেশে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা আসাদ তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগসাজশে ভুক্তভোগীর টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পিবিআই। তাঁর কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই আরও জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে আসামিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় একই ধরনের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পিবিআই। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার আরও তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

