বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লা থানার দায়েরকৃত নাশকতা ও যানবাহন ভাংচুর মামলায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ্ আলম, সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমান খোকা, সহ সাংগঠনিক রুহুল আমিন শিকদার সহ বিএনপি ও ছাত্রদলের ১৭২ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও আটককৃত ৬ ছাত্রদল কর্মীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফতুল্লা থানা ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আহমেদ জাবেদ।
বৃহস্পতিবার ( ২৭ সেপ্টেম্বর ) এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান । তিনি বলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির মুক্তির দাবিতে আমরা মাহমুদপুর ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল শেষ করে যাবার সময় পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায় । এবং বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের করেন । আমি এই বানোয়াট ও মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । অবিলম্বে এই মামলায় প্রত্যাহার করে আটককৃত কর্মীদের মুক্তি দাবি করছি ।
প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জেলা সভাপতি মশিউর রহমান রনির মুক্তির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মাহমুদপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ এসে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় । এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে ৬ জন ছাত্রদল কর্মী কে আটক করা হয় । তারা হলেন নাজমুল ইসলাম , মেহেদী হাসান মিলন, ইয়াসিন আরাফাত বাধন ,রাকিব হোসেন, আশিকুর রহমান ফাহিম , ইব্রাহীম ।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১০টি লাল স্কচটেপ পেঁচানো অবিস্ফোরিত ককটেল, ৩০ পিস ৩ ফুট লোহার রড, ২৭টি ৪ ফুট বাঁশের লাঠি ও গাড়ি ভাঙ্গার কাচের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন ।
পরেরদিন বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী এনামুল হক বাদী হয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ আলম, সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক লূৎফর রহমান খোকা, সহ সাংগঠনিক রুহুল আমিন শিকদার সহ বিএনপির ১৭২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন । এ মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিকেলে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত’র আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।
মামলার বাকী আসামীরা হলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন খন্দকার, ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি একরামুল কবির মামুন, যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন লাভলু, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলমের ব্যক্তিগত সহকারি বোরহান উদ্দিন বেপারী, অ্যাড. মাহবুব, ছাত্রদল নেতা শাজাহান, সেলিম চৌধুরী কমল, নুর মোহাম্মদ, কায়েস আহম্মেদ পল্লব, জাবেদ, শরিফুল ইসলাম মানিক, আবুল হোসেন পায়েল, নিলয়, মো. সোহাগ, মো. সোহেল, মো. মোক্তার হোসেন, মো. আরিফ, স্বপন চৌধুরী, গাজী নূরে আলম, মোসলেম উদ্দিন মুসা, ওয়ালি উল্লাহ খোকন ওরফে মাষ্টার খোকন, নজরুল ওরফে ধুলা নজরুল, আমিনুল ইসলাম জুয়েল, ফতুল্লা ইউনিয়ণ বিএনপির সভাপতি হাজী আবুল হোসেন, রফিক, সাগর সিদ্দিকী, এনামুলসহ অজ্ঞাত আরো ১২০ থেকে ১৪০ জন।

