বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং বন্ধ বা পিপিপি নয় আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায়ই পাটকল চালু করার দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয। বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, বিমল কান্তি দাস, সেলিম মাহমুদ, রাশিদা আক্তার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, লোকসানের অজুহাতে ২৬টি রাষ্ট্রীয় পাটকল সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ লোকসানের প্রকৃত কারণ কি তা চিহ্নিত করে দূর করার কোন উদ্যোগ সরকার নেয়নি। লোকসানের জন্য শ্রমিকরা দায়ী নয়, দায়ী পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুলনীতি। এর দায় জনগণ নেবে কেনো?
নেতৃবৃন্দ বলেন, যখন সারা পৃথিবীতে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যখন কৃত্রিম তন্তু, পলিথিন পরিহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সময়ে পাটকল বন্ধ করা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা। পাট এবং পাটকল আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সম্পর্কিত। ফলে পাটকল বন্ধ করা মুক্তযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকারের সাথেও বিশ্বাস ঘাতকতা করা। আমাদের সংবিধানেও রাষ্ট্রীয়খাত প্রধান, ২য় সমবায়, ৩য় ব্যাক্তিখাত অথচ সরকার ব্যক্তিখাত কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান কে লংঘন করে চলেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, লোকসানের মূল কারণ পুরোনো যন্ত্রপাতি, অদক্ষ ও মাথাভারী প্রশাসন, সময়মতো অর্থ ছাড় ন করা, পাট পণ্যের বহুমুখীকরণ না করা এবং দুনীতি, লুটপাট। ফলে আধুনিকায়ন করে লোকসানের কারণসমূহ দূর করে পাটকল লাভজনক করা সম্ভব।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার পিপিপির নামে জনগণের সম্পদ ব্যক্তি মুনাফার হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। আগেও পিপিপির মাধ্যমে বহু কারখানা ব্যক্তিখাতে দেয়া হয়েছে। তার অভিজ্ঞতা কি? সেগুলোর অনেকগুলো বন্ধ, কেউ কেউ চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার এমন সময়ে পাটকল বন্ধ ঘোষণা করলো যখন পাটের সৌসুম। ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণার পর পাটের দাম মণ প্রতি প্রায় ৪০০/ ৫০০ টাকা কমে গেছে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের ৪০ লাখ পাট চাষী। ফলে পিপিপি বা বন্ধ নয়, আধুনিকায়ন করে পাটকল চালুরাখার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, এমনিতেই আমাদের কাঁচা পাট ভারতে পাচার হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ হওয়ায় কাঁচাপাট পাচার বাড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতকেই লাভবান করবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ৪৮ বছরে ব্যাংক ডাকাত ঋণখেলাপিদের ৪৫ হাজার কোটি টাকা সরকার মাফ করে দিয়েছে। রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গত ১০ বছরে উৎপাদন না করেও বসিয়ে রেখে তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ভর্তুকী দিয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। অথচ ৪৮ বছরে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা পাটকলে লোকসান দিতে হয়েছে বলে সোরগোল তোলা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার অজুহাত হিসেবে লোকসানকে বড় করে দেখে। কিন্তু এর সাথে যুক্ত শ্রমিক পরিবারের জীবিকা, সরকারকেগত ৪৮ বছরে কত টাকা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল ও ট্যাক্স হিসাবে দিয়েছে? পাটচাষী ও শ্রমিক, কারখানার সাথে যুক্ত পরিবার, তাদের মত কত মানুষের জীবিকা চলে এই পাটকলের উপর সেটা দেখা হয় না।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পাটকর বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাটকল আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় চালু রাখার দাবি জানান। অন্যথায় পাটকল শ্রমিক, পাটচাষী ও দেশ প্রেমিক জনগণকে ঐকবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে পাটকলসহ জাতীয় সম্পদসমূহ রক্ষা করা হবে।

