বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আরো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হোক, উন্নয়ন হোক আমরা চাই। কিন্তু তা যদি পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করে হয়, তবে সেই উন্নয়ন দিয়ে কী হবে—এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলছেন রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে এর ফলাফল শুভ হবে না। তারপরও সরকার যেকোনোভাবেই এখানেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে চায়।
শনিবার দুপুরে খুলনায় ‘দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনা ও সুন্দরবন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। নগরের একটি হোটেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনটিএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে ইউনেসকোর দেওয়া প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনেসকোও চাচ্ছে না সুন্দরবনের কাছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষ বলছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এ প্রকল্প বন্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে। তারপরও প্রভুদের খুশি করার জন্য এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরকার আর একটি আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন তৈরির পথে হাঁটছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের তৈরি সার্চ কমিটির মাধ্যমে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন তৈরি করে আর একটি একতরফা নির্বাচন করতে চায়। এরা সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে।
এ সরকার উন্নয়নের কথা বলা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সরকার দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকার নয়। সরকার উন্নয়নের গালগল্প প্রচার করছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, সরকার সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের ২৫০ জনের ওপরে জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিলেটের আরিফুর রহমানসহ অন্যদের বরখাস্ত করার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারের শুরুতে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহমুদুল হাসান। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি এবিএম ওবায়েদুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ খালেদ হোসেন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মো. জাকির হোসেন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা প্রত্যেকেই সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইস্যুতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
