বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ভাষা সৈনিক ও রতœগর্ভা মা মরহুম নাগিনা জোহার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরহুমার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের পরিবারের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই দোয়ায় তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
মঙ্গলবার ৭ মার্চ বাদ মাগরিব মরহুমার দ্বিতীয় ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটার্য়াস লিমিটেডের অভ্যন্তরে দোয় অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া কারখানার প্রায় ৩ হাজার শ্রমিকের অংশ গ্রহণ করে। দোয়া শেষে কারখানার শ্রমিকদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মরহুমার দ্বিতীয় ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, ছোট ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান, বড় ছেলে মরহুম নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস পারভিন ওসমান, সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান, শামীম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস সালমা ওসমান লিপি, মরহুমার দুই মেয়ে নার্গিস আক্তার ও নিগার আক্তার, এমপি সেলিম ওসমানের ৩ মেয়ে অনন্যা শারমিন, অর্পনা শারমিন, রোমানা শারমিন, দুই জামাতা সোয়েব মোহাম্মদ আরেফিন ও আক্তার হোসেন অপূর্ব, তিন নাতি আদিয়াত জোহায়ের, আজমান, ফাইজান, এক নাতনি ইনশিরা আমিরা,
শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, মেয়ে লাবিবা জোহা, মরহুম নাসিম ওসমানের ছোট মেয়ে আফরিন ওসমান সহ অন্যান্য সদস্যরা।
প্রসঙ্গত মরহুমা নাগিনা জোহা নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের জাতীয়পার্টি সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মা। সেই সাথে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরনোত্তর) প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক সাবেক এমএলএও জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা একেএম শামসুজ্জোহার সহধর্মিনী। গত ২০১৬ সালের ৭মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয়। বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠ পোষকতায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এমএলএ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্য সভার স্পিকার ছিলেন। নাগিনা জোহা ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদালয়ের অধীনে মেট্টিক পাস করেন। ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সন্তান রাজনীতিবিদ এ কে এম শামছুজ্জোহার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। স্বামীর বাড়িতে নতুন বউ হিসেবে এসেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর শ্বশুর তৎকালীন এমএলএ খান সাহেব ওসমান আলীর চাষাঢ়ার বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ ছিল আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।

