বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নিখোঁজের ১৪ বছর ৪ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে মো. রুবেল নামের এক যুবক। তাকে অপহরন করার অভিযোগে মামলা করেছিলো তার মা। সেই মামলা আসামী করা হয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ ১৯ জন কে। তাদের মধ্যে ৬ জন বিভিন্ন মেয়াদে জেল হাজতে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়ের পার এলাকা।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে ওই ফিরে আসে। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তাকে থানায় হাজির করা হয়।
২০০৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে ৭ বছর বয়সী মো রুবেল নামের ওই যুবককে অপহরন করা হয়েছে এমন অভিযোগে তার রাহিমা বেগম অপহর মামলা করেন। মামলায় আসামী করা হয়, মামলায় আসামী করা হয় ১৯ জনকে। তাদের মধ্যে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সদর মডেল থানা, পরে মামলার তদন্ত পায় সিআইডি। এ সংস্থাও কয়েক মাস তদন্ত করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেন আদালতে। তবে মামলার বাদী রাহিমা বা বার নারাজী দেন। পরে দায়িত্ব পান র্যাব। এ সংস্থ্যা মামলায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের রিমান্ডে নেয়। অন্যরা ছিলো পলাতক। তবে তারা তদন্ত শেষ করতে না পারায় পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় গোয়েন্দা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিল করেন। ওই দিন মামলাটি নিষ্পতি করে আদালত।
এ ঘটনার ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে কুড়ের পর গ্রামের হাজির হয়েছে সেই ২২ বছর বয়সী সেই যুবক। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে সৃষ্টি আলোচনা হয়েছে। তাকে দেখতে ভীড় জামিয়েছে আশপাশের মানুষ। খবর পেয়ে ছুঁটে যান মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও। পরে তাকে রাত ১০ দিকে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে।
কারাগারে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস উদ্দিন বলেন, রুবেল নামের এই যুবককে আমি কখনো দেখি নাই। তারে আজ প্রথম দেখলাম। কিন্তু তারে অপহরনের অভিযোগে আমারে গ্রেপ্তার করছে। পরে কারাগারে আড়াই মাস ছিলাম। আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বলেন, ৬ জন কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদেরকে ১০ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব। আমি সাড়ে ৪ বছর পালায় ছিলাম বান্দরবন। মামলা শেষ হওয়ার পর ফিরে আসছি। আজ ওই ছেলে গ্রামে ফিরে আসছে।
আমাগো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। বিনা কারনে জেল খাটতে হয়ছে। আমরা এর বিচার চাই।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান বলেন, ১৪ বছর পর ফিরে আসা যুবক রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

