বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আজ মহাঅষ্টমী। অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। শঙ্খ, ঘণ্টা, আর উলু ধ্বনির মধ্যদিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে দুর্গা দেবীকে কুমারী রূপে অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে আগতরা এতে অংশ নেয়।
আজ মহাষ্টমীতে দেবীরূপে মানবীর মঞ্চে অধিষ্ঠিত হয় মাত্র নয় বছর বয়সী রাজশ্রী ভট্টাচার্য্য। কুমারী বেশে সেই মহামায়াকেই মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছেন শত শত ভক্তরা। বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার পরিতোষ সাহার পূজা মন্ডপে প্রতিবছরের মত এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা অষ্টমীর দিন এই ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
যে কিশোরীকে দুর্গা প্রতিমার দেবীজ্ঞানে পূজা করা হচ্ছে সেই পূজার আসনে বসেছেন মাত্র ৯ বছর বয়সী রাজশ্রী ভট্টাচার্য্য। রাজশ্রীকে পূজার মন্ডপে তুলে এনে ষোড়শ উপাচারে পূজা করা হচ্ছে। তার এই দেবীরূপে প্রকাশকে ঘিরে তার পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের বাঁধ ভেঙেছে। রাজশ্রী ভট্টাচার্য্য নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এলাকার ফটো সাংবাদিক পাপ্পু ভট্টাচার্য্য ও স্বর্না ভট্টাচার্য্যরে মেয়ে। সে মোদগুল্লো গোত্রের এবং নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। নয় বছর বয়সী কুমারীকে বলা হয় কালসন্দর্ভা।
নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজক পরিতোষ সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তবৃন্দরা এই পূজায় অংশ নেন। ১৮ বছর যাবৎ এই পূজা আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবছরই এই কুমারী পূজা করা হয়। দেশ ও জাতির জন্য দেবী দূর্গার কাছে প্রার্থনা করেন আয়োজক পরিতোষ সাহা।
কুমারী পূজা মানে স্বয়ং মাকে পূজা করা। পৃথিবীতে দেবী দুর্গাই সর্বশক্তিমান। তাকে লক্ষ্য করেই কুমারী পূজা করা হয়। একজন কুমারীকে মাতৃজ্ঞানে আমরা পূজা করি।

