বিজয় বার্ত ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সদর থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রচারসামগ্রী প্রস্তুতের অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় বিপুল পরিমাণ টি-শার্ট ও স্টিকার জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজেদুর রহমান এর নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোঃ রমজান হোসেন এবং এসআই (নিঃ) মোঃ সেলিম মিয়া এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ আগস্ট রবিবার দুপুরে সদর মডেল থানাধীন ৫৫/২৭ এসএম মালেহ রোড, রিভারভিউ কমপ্লেক্সের আন্ডার গ্রাউন্ডে অবস্থিত একটি ছাপাখানায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের চার জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় আরও ৬/৭ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। আসামীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সহিত দলের কর্মকান্ড সংক্রান্তে আলোচনা করে নিষিদ্ধ দলের সদস্য হওয়ার জন্য আহবান, প্রচার/প্রচারণা ও পরিচালনা, সহায়তা করে আসছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে শিহাব আহম্মেদ আরাফাত (২৮), নিতাইগঞ্জ নলুয়াপাড়া এলাকার জামির হোসেন রনির ছেলে মোঃ জিহাদ হোসেন ওরফে আলিফ (১৯), দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার মো.আজম হোসেন খানের ছেলে মোঃ সামির হোসেন খান (২৬) ও হৃদম প্লাজার আবুল খায়েরের ছেলে মোঃ রাকিবুল হাসান (৩২)।
পুলিশ জানায়, অভিযানকালে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের হেফাজত ও ঘটনাস্থল থেকে পলাতক ব্যক্তিদের ফেলে যাওয়া অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখা সম্বলিত ৭০টি কালো রঙের গোলগলা টি-শার্ট, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত ৪০টি লেমিনেটেড স্টিকার এবং স্টিকারবিহীন ১০টি কালো রঙের গোলগলা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো যথাযথ জব্দ তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে জানা যায়, উক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচার-প্রচারণামূলক সামগ্রী প্রস্তুতের কাজে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী/১৩) এর ৮, ৯(৩), ১০, ১১, ১২, ১৩ ধারায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
