বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ভাষা সৈনিক ও রতœগর্ভা মা মরহুম নাগিনা জোহার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৫’শ জন দরিদ্র অসহায় নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। মরহুমার দ্বিতীয় ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগে জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়।
বুধবার ৮মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গনে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়। শাড়ি বিতরণ কালে মরহুমার পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বড় পূত্রবধূ মিসেস পারভিন ওসমান, মেঝপূত্রবধূ মিসেস নাসরিন ওসমান, ছোট পূত্রবধূ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি, মরহুমার মেয়ে নিগার আক্তার ও নার্গিস আক্তার। নাতনি আইরিন ওসমান, আফরিন ওসমান ও রোমানা শারমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, রোকসানা খবির, প্রফেসর শিরীন বেগম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নারী নেত্রীবৃন্দরা।
প্রসঙ্গত মরহুমা নাগিনা জোহা নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের জাতীয়পার্টি সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মা। সেই সাথে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরনোত্তর) প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক সাবেক এমএলএও জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা একেএম শামসুজ্জোহার সহধর্মিনী। গত ২০১৬ সালের ৭মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয়। বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠ পোষকতায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এমএলএ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্য সভার স্পিকার ছিলেন। নাগিনা জোহা ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদালয়ের অধীনে মেট্টিক পাস করেন। ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সন্তান রাজনীতিবিদ এ কে এম শামছুজ্জোহার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। স্বামীর বাড়িতে নতুন বউ হিসেবে এসেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর শ্বশুর তৎকালীন এমএলএ খান সাহেব ওসমান আলীর চাষাঢ়ার বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ ছিল আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।
