বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের উদ্যোগে “সাম্রাজ্যবাদের নতুন ফাঁদ ধমীয় জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসী রুখে দাঁড়াও” এই শ্লােগানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তকী মঞ্চের আহ্বায়ক রাফিউল রাব্বী এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট আবদুল সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক ও তকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও তকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাসদ সদস্য আবু নাঈম বিপ্লব, সিপিবি এর সাধারণ সম্পাদক শীবনাথ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, মহিলা নেত্রী ফাহিমা আজাদ ও রাশিদা বেগম প্রমূখ।
রফিউর রাব্বী বলেন, আবারও বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দন্ডীত হয়েছে । শুধুমাত্র গুলশান ও শোলাকিয়ায় বরবরোচিত হামলা মধ্য দিয়ে ঘটনার সূতপাত্র হয়নি। কিন্তু এর সূত্রপাত ঘটেছিল আরও বিশ ও বাইশ বছর আগে আমরা শুনেছি ঢাকায় শ্লোগান দিলেছিল আমরা হবো তালেবান আর বাংলাদেশকে বানাবো আফগান। কিন্তু তখন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং ঐ শ্লোগানকারীদের পৃষ্টপোষকতা করেছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকার জঙ্গীদের মদত দিচ্ছে এবং সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যে সরকার আসে তখনই জঙ্গীও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে আর প্রয়োজন শেষে তাদেরকে গ্রেফতার ও ইনকাউন্টার করে মারছে। সরকারের মন্ত্রী বলেন আমরা জানি কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাছে। তাহলে তিনি কি গুলশানে হামলা হবে জানার পরও সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি? তাহলে তো ২০ মানুষ মৃত্যুবরণ করতো না। সরকার এখন জঙ্গী দমনের নামে বিরোধী দলকে দমন করার পায়তারা চালাচ্ছে। বিদেশী সবাই বলেন আমেরিকা তারা সৌদি আরব থেকে ওসামা বিন লাদেন ও আফগানিস্থান থেকে মোল্লা ওমর দিয়ে তালেবান তৈরী করেছে। আমেরিকা বিভিন্ন দেশের ভূ-খন্ড ঢুকে তারা সেই দেশকে অস্থিতীশীল তৈরী করে দেন। আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর দরকার নেই। যদি এই সরকার মনে করে ইন্ডিয়া আর আমেরিকা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে তাহলে সেটি হবে তাদের ভূল চিন্তা ভাবনা। সরকার ক্ষমতা থাকার জন্য অবশ্যই তাকে এদেশের জনগণ সাথে করে তাদের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবি করে। কোথায় তাদের আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ করে এদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করেছি। প্রয়োজন হলে আমরা বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ আবার জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়াবে ।
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আবার এদেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গীবাদীরা অরাজ্যগতা তৈরি করছে । তারা গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ মারছে । এর জন্য দায়ী এদেশের সরকার । তারা কোন একটি হত্যা, গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার করেনি । তারা বরং ঐ সব সন্ত্রাসীদের মদত দেন । আজও বিচার পাইনি ত্বকী এবং চঞ্চল হত্যা সহ নারায়ণগঞ্জ অনেক হত্যাকাণ্ডের। বাংলাদেশের মধ্যে একটি রাজ্য আছে তার নাম নারায়ণগঞ্জ আর এই রাজ্যের পরিচালনা করেন ওসমান পরিবার। কিছু দিন আগে একজন সম্মানিত শিক্ষককে একজন এমপি কিভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কান ধরে ওটবস করালেন। তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান ত্বকী হত্যার মুল হোতা সে নিজে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ত্বকীকে গুম নির্যাতন ও হত্যা করে। আজও তার বিচার করা হয়নি কারন সে ওসমান পরিবারের ছেলে। চারশিটে আজমেরী ওসমান এর নামে আসে কিন্তু প্রশাসনের আরালে ত্বকী হত্যার কাগজপত্র বাতিল করার চেষ্টা করছে। আমরা সকল সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। যদি সরকার নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারকে দমন না করতে পারে তাহলে কখনো নারায়ণগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না ।
