বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামি জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে বড় দুটি দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সার্বিক আগাম প্রস্তুতি সাধারণ মানুষ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ওই নির্বাচন নিয়ে দু’দলের বড় টেনশন বা দুশ্চিন্তা কি-এ নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলও বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছে।
ক্ষমতাসীনদের দুশ্চিন্তা কি জানতে চাইলে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নির্বাচন নিয়ে তাদের বড় কোনো টেনশন বা দুশ্চিন্তা নেই। দলের মধ্যে ছোটখাটো বিরোধ মিটিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে নামানোই তাদের মূল চ্যালেঞ্জ। আর নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান করা হবে। নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীনদলের সংসদ সদস্যরা জেলার মানুষের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন, তাতেই তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বরং জামায়াত সংশ্লিষ্টতাসহ নানা কারণে বিএনপিকে মানুষ বর্জন করছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা? অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করাই তাদের মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই জয়ের পথে মূল মাথাব্যথা বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামি নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। এদিকে গত কয়েকদিনের দলীয় কোন্দল নিরসনতো দূরের কথা বরং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উল্টো অনেক জায়গায় তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কোন্দল দলটির হাইকমান্ডকে আরও ভাবিয়ে তুলছে। কোন্দলের পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে নানা মহলে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও মনে করছে শাসক দল।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের ছোটখাটো দ্বন্ধ-কোন্দল মেটানোই আমাদের চ্যালেঞ্জ। দূরত্ব দূর করে নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করে আগামী নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য টেনশন বা ঝুঁকির তেমন কিছু দেখি না। বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের কাছে তুলে ধরা, আর নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য যে গোল সেট করেছি তা জনগণকে উপলব্ধি করানোই হবে আমাদের অন্যতম কাজ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বলেন, নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীনদলের সংসদ সদস্যরা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ব্যাপক উন্নয়ন উপহার দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নের যে রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে তাতে নারায়ণগঞ্জবাসী আমাদের পাশে আছে এবং জনগণের ভোটে আমরাই জয়ী হব বরং বিএনপির দুশ্চিন্তা বেশি। তারা সরকারে থেকে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে লুটপাট করেছে। জনগণের জন্য কোনো কাজই করেনি।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাঠের বিরোধী দল নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রধান টেনশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে। দলটি মনে করে, ন্যূনতম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের জয় সুনিশ্চিত। কারণ মাঠে তাদের নিজেদের ভোট ব্যাংক ছাড়া সরকারবিরোধী বিপুলসংখ্যক ‘নেগেটিভ’ ভোট আছে। নেতাকর্মীরাও আগের তুলনায় বেশি ঐক্যবদ্ধ। দলীয় কোন্দলও সহনীয় পর্যায়ে। বরং ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির উপকারই হবে। বলতে গেলে সবকিছুই ঠিক আছে। তাই এসব নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। তাদের প্রধান চিন্তা- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা।
আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, আমাদের দুশ্চিন্তা একটাই তা হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। মাঠে ধানের শীষের ব্যাপক ভোট রয়েছে। ক্ষমতাসীনদলের উপর মানুষ ত্যাক্ত বিরক্ত। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অপকর্মের ফলে নারায়ণগঞ্জে ধানের শীষের সমর্থন অনেকটা বেড়েছে। এর সঙ্গে যারা আওয়ামী লীগ ও সরকারের কর্মকা- পছন্দ করেন না, এ ধরনের ‘নেগেটিভ’ ভোটও তাদের পক্ষেই যাবে। দলে কোন্দল ততটা নেই। সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের জয় সুনিশ্চিত।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের টেনশন বিএনপি এবং সাধারণ জনগণ। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে চায় এমন ঘোষণাই ক্ষসতাসীনদের বড় দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ ভালো করে জানে সহায়ক সরকার কিংবা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গত সাড়ে আট বছরে ক্ষমতাসীনদের অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, দুঃশাসন, খুন। এছাড়া কোন্দল নিয়েও আওয়ামী লীগ বড় দুশ্চিন্তায় আছে।
