প্রেসবিজ্ঞপ্তি,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কমিটির অন্যতম নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড আবু হাসান টিপু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে তার মতলববাজ পরামর্শকদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের জালিয়াত কোম্পানী, এনটিপিসির কর্তৃত্বাধীন পরিবেশ বিধ্বংসি রনামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে এবং ইতোমধ্যে সম্পাদিত দেশের স্বর্থ বিরোধী রামপাল চুক্তি বাতিল করতে হবে। দেশের জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, প্রতিযোগীতাহীন এবং বিনাভোটে নির্বাচিত এই সরকার যা খুশী তাই করতে পারে না। সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিনিময়ে দেশের মানুষ কোনভাবেই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস হতে দিতে পারে না।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের যে সর্বনাশা তৎপরতায় যুক্ত তা সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। প্রধানমন্ত্রী একদিকে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বচ্চো পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ’ গ্রহণ করছেন আর অন্যদিকে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প অব্যাহত রেখেছেন। এখন তার উচিত হবে এই পুরস্কারের মর্যাদা রক্ষায় অনতিবিলম্বে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের যাবতীয় তৎপরতা স্থগিত ঘোষণা করা। তা না হলে ভবিষ্যতে এই পুরস্কার তার ও তার সরকারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে।
আবু হাসান টিপু বলেন, সুন্দরবন হলো বিশ্বের বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। এদেশের লাখো লাখো মানুষের জীবিকা ও ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে মায়ের মতো কোটি কোটি মানুষকে বুকে আলগে রেখে রক্ষা করছে এই সুন্দরবন। ৪০০ খাল ও চোট বড় মিলিয়ে ২০০টি দ্বীপের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক সৌন্ধর্যের এই অপূর্ব লীলাভূমি শতশত প্রজাতির বন্যপ্রানী, মাছ, গাছ, মধু, গোলপাতাসহ বহু সম্পদের আধার। অপরদিকে একটি কয়লা ভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎ প্রকল্প হাজার হাজার টন সালফার, নাইট্রোজেন, ছাই ও কয়লা ধোয়া পানি নিঃসরণ করে। আর এসবের কারণে চরম বিপর্যয় ঘটবে সুন্দরবনসহ আশপাশের গোটা পরিবেশের।
আজ রবিবার সকাল ১১টায় পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে কমরেড হাবিবুর রহমান আঙ্গুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভার এক প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষনা দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ বিএনপির দ্বি-দলীয় বলয়ের বাইরের সকল বাম প্রগতিশীল, গণতন্ত্রমনা ব্যাক্তি ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের বাসযোগ্য একটি আধুনিক নারায়ণগঞ্জ প্রতিষ্ঠার লড়াই-এ সামিল হওয়ার আহবান জানানো হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির অন্যতম নেতা শহিদুল আলম নাননু, রাশিদা বেগম, জাহাঙ্গীর খোকন, উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকনেতা মোক্তার হোসেন, আইউব আলী, মুক্তা বেগম প্রমূখ।
