বিজয় বার্তা ২৪ ডট ক
একাধিক মামালার আসামী দুর্ধর্ষ কিলার সন্ত্রাসী শাহজাহান ও দেলোয়ার হোসেন দেলু জামিনে বেরিয়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। যারফলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আইলপাড়া পাঠানটুলী এলাকার নিরীহ মানুষজন শংকিত ও আতংকিত রয়েছে। যে কোন সময় এলাকায় বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল আংশকা করছে। সেই সাথে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
জানাযায়, গত এক সপ্তাহ পূর্বে মাদক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু ও গত দুইদিন পূর্বে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শাহজাহান বিজ্ঞ আদালত থেকে আইনের ফাকফোঁকরে জামিনে বেরিয়ে পড়ে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে আমরা অনেক কষ্ট করে মাদক বিক্রেতা ও দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাই কিন্তু খুবই দ্রুত আদালত থেকে ওরা জামিনে বেরিয়ে পরে। এলাকাবাসী জানায় মাদক সন্ত্রাসীদের বড় সিন্ডিকেট ও প্রচুর অর্থবিত্ত থাকায় সহসাই আইন তাদের কিছুই করতে পারেনা। মৃত: আজিজুর রহমানের কুখ্যাত ছেলে ভুমিদস্যু ও সন্ত্রাসের গডফাদার এবং হত্যা মামলার আসামী শাহজাহান আইলপাড়া পাঠানটুলী ও হাজীগঞ্জ এলাকার কতিপয় বিপথগামী তরুনদের নিয়ে গড়ে তুলেছে এক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। আর মদদি শাহজাহান ড্রাইভারের ছেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু গড়ে তুলেছেন মাদক সিন্ডিকেট। যারফলে দেলু হয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা। শাহজাহানের সাথে দেলুর দারুন সখ্যতা থাকায় এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের কব্জায় রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ যদিও নিরব রয়েছে তারপরও এলাকাবাসী ও সমাজকর্মীদের সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী আন্দোলন করায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও সাধারণ মানুষ বর্তমানে আতংকে রয়েছে। শাহজাহান ও দেলু জামিনে বেরিয়ে আসলে এলাকায় গত কয়েক দিনে অস্ত্রধারী চিহ্নিত ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যেই মোহড়া দিচ্ছে। শাহজাহানের পাঠানটুলীস্থ অবৈধভাবে দখল করা বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন অপরাধীদের অভয়ারন্য হিসেবে পরিচিত রয়েছে।
আরও জানাযায়, শাহজাহানের অপকর্মের মধ্যে বিগত ২০০৭ সালের ২০ জুন হাজীগঞ্জের মোসাঃ ফাতেমা খাতুন ভুমিদস্যুতার অভিযোগে বিজ্ঞ ১ম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালতে শাহজাহান, ডিএইচ বাবুল সহ মোট ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। ২০১১ সালের ১৮ আগষ্ট, জালকুড়ির আব্দুল হালিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শাহজাহান ও শহিদুল্লাহকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি এনায়েত নগরের মারুফ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাহান সহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পাঠানটুলী আইলপাড়া এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান রোমান পুলিশ সুপার বরাবর শাহজাহান, শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। ২০১৬ সালের ১৯ আগষ্ট পশ্চিম আইলপাড়া এলাকার সমাজকর্মী মান্নান ভূঁইয়াকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় শাহজাহান, শহিদুল্লাহ, সাইদুল, দেলু সহ ৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর শাহজাহান, শহিদুল্লাহ ও দেলু সহ বেশ কয়েক জনকে আসামী করে পুলিশ সুপার বরাবর এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর শাহজাহান সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থায়ীভাবে ৩ তলা আবাসিক বিল্ডিং নির্মাণে উচ্ছেদ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলী ও হাজীগঞ্জ এলাকাবাসীর পক্ষে একটি আবেদন করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর পাঠানটুলী এলাকার এক ভুক্তভোগী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার বরাবর শাহজাহানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া গোগনগরের চাঁন মিয়া হত্যা মামলায় সম্প্রতি শাহজাহানকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে গত দুইদিন পূর্বে জামিনে এসে আবারও উৎপাৎ শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন দেলুর অপকর্মের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পাঠানটুলী কবরস্থান রোডে গত ১০ আগষ্ট ২০১৫ সালে দেলোয়ার হোসেন দেলুকে ইয়াবা সহ আটক করে সাজা প্রদান করেন। ২১ অক্টোবর নতুন আইলপাড়া এলাকায় পুলিশের সোর্স নিরবকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেলু ও সুফিয়ান বাহিনী। যে হত্যাটি শহিদুল্লাহ ও শাহজাহানের হুকুমে হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। গত ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এনায়েত নগর মাদক সহ দেলুর সহযোগি সালাম সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ৭ ডিসেম্বর নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দেলু বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর আক্তার হোসেন নামে এক সমাজকর্মী অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সমাজকর্মী মোঃ সেলিম বাদী হয়ে দেলু সহ ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই আরকে সমাজকর্মী দেলু বাহিনীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশের সাথে দেলু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারী পুলিশ সুপার বরাবর দেলুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। আইলপাড়া এলাকার সুমন মিয়া দেলুর বিরুদ্ধে গত ১৯ মার্চ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বন্দরে ডাকাতি করার সময় হাতেনাতে ডিবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয় দেলু সহ আরও কয়েক জন। উল্লেখ্য যে শাহজাহান ও দেলু বাহিনীর প্রধান সেনাপতি শহিদুল্লাহ ওরফে কালা মানিক। যে কিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এই বাহিনীর অন্যতম সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামী সাইদুল। আর মাদক সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মধ্যে দেলুর স্ত্রী রুমা আক্তার, ডেস্কি বাবুল, রাশেদুল রাশেদ, জিতু, রিতু, ইস্তি, সাজাপ্রাপ্ত আসামী চঞ্চল, একাধিক অভিযোগ ও মামালার আসামী চাঁদাবাজ হিমেল, রাজিব, সজিব, রহমতুল্লাহ, ইমরান, জামান, হিয়াইল্যা ইয়াছিন, কেরাম বাবুল, স্বপন, নুরুল হক সহ আরও কয়েকজন অপরাধি এলাকার মধ্যে অরাজকতার সৃষ্টি করে সাধারণ নিরীহ মানুষদের আতংকে রেখেছে। স্থানীয় সমাজকর্মীদের ও প্রতিবাদকারীদের মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দিয়ে অহেতুক হয়রানী করছে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র্যাব, ডিবি ও পুলিশের কাছে ব্যাপক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এলাকাবাসী তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে চায়। আর অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে চায়না। সাধারণ মানুষ এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তাই যতদ্রুত সম্ভব প্রশাসনিক ভাবে বিশেষ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে এই মাদক সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। তা না হলে সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্রধারী মাদক সন্ত্রাসীরা যে কোন সময় বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

