বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাসদের ৪৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মহান রশ বিপ্লবের ১০৮ তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার
বিকাল ৩ টায় চাষাড়াস্থ শহিদ মিনারে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভার শুরুতে ব্যানার, ফেস্টুন সম্বলিত একটি লাল পতাকা মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।
বাসদের জেলা আহ্বায়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ। আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ সোনারগাঁও উপজেলার সমন্বয়ক বেলায়েত হোসেন, বাসদ ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক এম এ মিল্টন, দলের ফতুল্লা থানার সদস্যসচিব এসএম কাদির প্রমুখ।
কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাসদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনগনের পাশে দাড়িয়ে গণদাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে লড়াই করছি, নির্যাতিত হয়েছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সহস্রাধিক ছাত্র-শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটালাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে সরকার পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থা বদলায় নি। ফলে বর্তমান সরকারের সময়ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে গরিব শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। শুধু তাই নয় শ্রমিকের চাকরি, মজুরি, কৃষকের ফসলের দাম, বেকারত্ব, প্রবাসীদের যন্ত্রণা, ছাত্রদের শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি, ঔষধের দাম ও চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি, নারীর লাঞ্চনা অপমান ও নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কোন দায়িত্ব পালন করছে না। যেন অতিতের স্বৈরাচারের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত দেড় বছরে তৌহিদী জনতার নামে মাজার -মন্দির ভাংচুর, লুটপাট, বাউলদের উপর হামলা, সাংস্কৃতিক উৎসব বন্ধ, নারীদের খেলা বন্ধ, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসসহ নানাবিধ অপকর্ম করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দ্বিগুণ উৎসাহে তাদের অপকর্ম করেই যাচ্ছে। বাউল আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা ও তার অনুসারী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রোগ্রামে হামলা করে অনেককে আহত করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করছে সরকার।
কমরেড ফিরোজ আরো বলেন, একদিকে চলছে দূর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ৩০ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ নভেম্বর’২৫ যেদিন শেখ হাসিনার বিচারের রায় হয়েছে, দেশের জনগণের যখন এই দিকে দৃষ্টি তখন অতি গোপনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল ডেনমার্কের কোম্পানির কাছে ৪৫ বছরের জন্য ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ-টার্মিনালটি ২২ বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডের কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিরদ্ধে দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। অন্র্Íবর্তী সরকারের উচিত এখতিয়ার বহির্ভুত এই দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরেন, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা দুষনমুক্ত করা। পশ্চিম পাশের ডিজাইন সংস্কার করে কদম রসুল সেতুর কাজ দ্রুত সময়ে শেষ কর। নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে চাষাড়া পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে ট্রেন লাইন নাও। ট্রেন, বগি, সেবার মান বৃদ্ধি কর। যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন কর। নারায়ণগঞ্জের মূল শহর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু কর। নারায়ণগঞ্জে খুন, মব সন্ত্রাস, মাদক, সাম্প্রদায়িক হামলা, নারী ও শিশু নির্যাতন-ধর্ষন বন্ধ কর। গ্যাস ও পানির সংকট নিরসন কর। এলাকাভিত্তিক বর্গফুট ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় যৌক্তিক বাসাভাড়া আইন প্রণয়ন কর
জনসভায় চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গনসংগীত পরিবেশন করে।
