বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর কলেজ ছাত্রাবাসে হামলা, শিক্ষার্থীদের মারধর, লুটপাট ও ভাঙচুরে ছাত্রদলের উপর অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দাবি,সংঘর্ষের পর বিকেলে একদল হামলাকারী ছাত্রাবাসে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর ও সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত (৫ আগস্ট) দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজের পদ্মা মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্রকরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিকেলে কলেজ ছাত্রাবাসে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
“সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মাহফুজ খান অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী কলেজ ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের কক্ষে কক্ষে গিয়ে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন তল্লাশি চালায়, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং স্টাম্প, লোহার রড, বেল্ট ও কাঠের চেয়ার দিয়ে মারধর করে। এতে শরীফ আব্দুল্লাহ রাব্বি, দেওয়ান আমজাদ, রেদওয়ান, রিফাত ও ইমন হোসেনসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজন জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মী রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
ছাত্রশক্তির অভিযোগ, হামলার সময় একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১৫, একটি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব, একটি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, একাধিক মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইয়ারপড, হাতঘড়ি এবং নগদ ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। এছাড়া ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ খান আরো বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনা নয় বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধমূলক হামলা। তাদের দাবি, জাতীয় ছাত্রশক্তির কোনো নেতাকর্মী মূল সংঘর্ষে জড়িত না থাকলেও পরবর্তীতে তাদের সমর্থক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি হামলার সময়কার কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
কলেজ প্রশাসনের ভূমিকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। তাদের ভাষ্য, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা সাময়িকভাবে ছাত্রাবাস বন্ধ রাখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা রোধে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সহাবস্থান, সংলাপ ও সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তবে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, সদস্য সচিব সারফারাজ হক সজীব, মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম, মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ানসহ জেলা, মহানগর ও কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা।
