বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় ফ্ল্যাটের ভেতর জমা গ্যাসের বিস্ফোরণে ১১ জন দগ্ধের ঘটনায় সাত সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্যে এই কমিটিকে সাত দিনের তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসক ।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাড়িতে গ্যাসের চূলার পাইপ লাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন নারী ও এক শিশুসহ এগারোজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর ছজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার তল্লা এলাকায় মডেল গার্মেন্টস এর দক্ষিণ পাশে স্থানীয় মফিজুল ইসলামের তিন তলা বাড়ির ৩য় তলায় ভাড়াটের ফ্ল্যাট বাসায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোসহ দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দগ্ধরা হলঃ- হাবিবুর রহমান, লিমন,সাথী, মীম, মাহিরা (৩ মাস), আলেয়া, সোনাহার,শান্তি, সামিউল, মনোয়ারা ও আরেকজনের নাম পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে লিমন, সাথী , মীম , মাহিরা (৩ মাস) ও আলেয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বিস্ফোরণের ঘটনার বিবরণ দেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় বেশ কয়েকটি পরিবার বসবাস করেন। রাতে একটি পরিবারের লোকজন চূলার বার্ণার বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চূলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরসহ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে জমাট বেঁধে থাকে। ভোরে রান্নার জন্য চূলায় আগুন জ্বালালে গ্যাসের পাইপ লাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় এক শিশুসহ ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ আগুনে দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে শিশুটিসহ পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং ছয়জনকে সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা বলেন, একই সাথে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে ভবনটি সিলগালা করে দেয়া হয়। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেয়া হবে।

