বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তী পড়েছে সাধারণ পথচারী।
বুধবার (২৯ মার্চ) মহাসড়কের মদনপুর আগে থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত সড়ক জুড়ে যানজট রয়েছে। এতে যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জড়ো হয়েছেন। এতে গতকাল রাত থেকে মহাসড়ক সহ আশোপাশে এলাকার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের তীব্রতায় বিরক্ত হয়ে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মুখি লেনে তীব্র যানজট রয়েছে। আর মদনপুর থেকে সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানজটের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখি লেনে কোথাও যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে আবার কোথাও ফাঁকা রয়েছে।
তীব্র যানজটে ভোগান্তির শিকার রফিক মিয়া বলেন, সকাল থেকে মহাসড়কে তীব্র যানজট রয়েছে। মদনপুর এলাকা থেকে বাসে করে মেঘনা ব্রিজ পার হতে চেয়েছি। সেখানে একটি কাপড়ের দোকানে আমি কাজ করি। কিন্তু তীব্র যানজটের ফলে এক ঘণ্টায় আধা কিলোমিটার এগোতে পারিনি। এ কারণে বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে রওনা করেছি। সামনে যানজট কম দেখলে অন্য কোন যানবাহনে চলে গন্তব্যে পৌঁছাব। নতুবা পায়ে হেঁটে পুরো পথ পাড়ি দিতে হবে।
অটোরিকশা যাত্রী শফিক বলেন, প্রতি বছর স্লান উৎসবের সময়ে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। কর্মস্থলে যেতে হলে মহাসড়কে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। ফলে যানজটের ভোগান্তি সহ্য করেই যেতে হচ্ছে।
ট্রাক চালক মামুন মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে যানজটের মধ্যে বসে আছি। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে বসে আছি। মাঝে মধ্যে সামনের গাড়ি কিছুটা এগোলে গাড়ির স্টার্ট অন করি। এভাবে সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কাঁচপুর এলাকায় বসে আছি। কখন যানজট শেষ হবে কে জানে?
স্থানীয় সূত্র বলছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। আর মদনপুর সহ মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে জনজনের পদচারণা বেড়েছে। যেকারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার টিআই মো.ইব্রাহিম বলেন, ‘মদনপুর থেকে কাঁচপুর হয়ে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট রয়েছে। সনাতন ধর্মমলম্বীদের স্নান উৎসবকে ঘিরে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় লাখ লাখ মানুষ জড় হয়েছে। মূলত সে কারণে গতকাল রাত থেকে মহাসড়কের যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর এই দিনে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত টিম কাজ করছে। এই উৎসব সম্পন্ন হলে যানজট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, যানজট নিরসনে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে। যানজট পরিস্থিতিও স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছে। যার কারনে লোকজন আসা যাওয়া করতে পারচ্ছে। স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে যাতায়াত করে স্নানে উৎসব পালন করতে পারে সেই ব্যবস্থাই আমরা করছি।

