বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জেলা পুলিশ প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যেখানে চাকুরীর সুবাধে পুলিশের অনেক কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনে গিয়েছিলেন অর্থবিত্তের মালিক।
কিন্তু অতীতে কোন অফিসার ইনচার্জই এই ডিবি কার্যালয়ের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ণের লক্ষ্যে কখনো পদক্ষেপ নেননি।
যার ফলে কার্যালয়ের বাহিরের অংশে একেবারেই ক্ষুদ্র পরিসরে নামাজ আদায়ের ঘর বানানো হলেও এখানে কর্মরত শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী মুসলমান সম্প্রদায়ের হওয়ার পরেও আদৌ অবদি কার্যালয়ের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি নামাজ আদায়ের জন্য কোন মসজিদ।
এমনকি কার্যালয়ের অভ্যন্তরে থাকা আসামীদের হাজতখানাটি ছোট আকারের পাশাপাশি তন্মধ্যেই উন্মুক্ত প্রসাব খানা থাকায় হাজতে থাকা আসামীদের যেমন গাদাগাদি করে দুর্গন্ধ সহ্য করেই এখানে সময় কাটাতে হতো তেমনি কখনো আসামীর সংখ্যা বেড়ে গেলে হাজতে জায়গা স্বল্পতার কারনে গুরুত্বপূর্ণ অনেক আসামীকে অফিসারদের কক্ষে হাতকড়া পরিয়ে মেঝেতে বসিয়ে রাখতে হতো।
তবে কয়েকমাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে যোগদানের পর আভ্যন্তরীণ এই সকল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পেরে এখন নিজ উদ্যোগে সেগুলো সমাধানের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র ইন্সপেক্টর ও ১ নং টিম ইনচার্জ এনামুল হক এনাম। ডিবিতে বর্তমানে পরিদর্শক পদমর্যাদার কোন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) না থাকলেও এখান দুর্ভোগ লাঘবে স্বপ্রণোদিত হয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ণে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।
যার মধ্যে, ইতোপূর্বেই আসামীদের জন্য থাকা ছোট পরিসরের হাজতখানা ভেঙ্গে তা বড় আকারে পুন:নির্মান করা হয়েছে। তন্মধ্যে থাকা প্রসাব খানাটিও উন্নত করা হয়েছে। ফলে এখন হাজতে থাকা আসামীদের আর দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে না। পাশাপাশি আগে হাজতখানার গেট খুলে আসামীদের ভিতরে খাবার সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে গেট না খুলেই হাজতে থাকা আসামীদের খাবার সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যা অনেকটা রেঁস্তোরার অনুকরনে করা হয়েছে।
এছাড়াও কার্যালয়ের প্রবেশমুখে ডানপাশে থাকা ক্ষুদ্র পরিসরের নামাজের ঘরটি স্থানান্তরিত করে এখন অভ্যন্তরেই মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে। তাছাড়াও কার্যালয়ের অবকাঠামোগত আরও কিছু উন্নয়ণ কাজও চলমান রয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানাগেছে।
আর সিনিয়র ইন্সপেক্টর এনামুল হকের এমন কাজের উদ্যোগ দেখে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অকপটেই মন্তব্য করেন, ‘সত্যিই একজন রুচিশীল ইন্সপেক্টরের অবদানে এখন উন্নয়ণের ছোঁয়া লেগেছে ডিবি কার্যালয়ে। যা কিনা নিজের খেয়ে অন্যের উপকার করার সামিল। আর সরকারী প্রশাসনিক সেক্টরে এমন রুচিশীল কর্মকর্তা পাওয়া যেন অনেকটাই ভাগ্যের ব্যাপার।’
তবে যেহেতু সরকারী চাকুরজীবিদের কর্মস্থল কখনো চিরস্থায়ী হয়না কিংবা তিনি এখানকার অফিসার ইনচার্জও (ওসি) না, কিন্তু তারপরেও কেন এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ণের উদ্যোগ নিলেন তিনি? এরজন্য কি সরকারী কোন অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন নাকি ব্যাক্তি উদ্যোগেই কাজ করছেন- এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হলে ডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র ইন্সপেক্টর এনামুল হক এনাম বলেন, ‘আসামীরা অপরাধী বলে কি তারা মানুষ নয়? যেহেতু পুলিশের বন্ধু জনগণ সেহেতু এই জেলার জনগণ হিসেবে একজন অপরাধীরওতো আমাদের কাছ থেকে বিধি অনুযায়ী নুন্যতম সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এখন আমাদের কাছ থেকে তারা প্রাপ্য সেবাটুকু না পেয়ে থাকে তাহলে আইনের প্রতি অপরাধীরা কিভাবে শ্রদ্ধাশীল হবে? তখন অপরাধ প্রবণতা কমবে তো দুরের কথা, উল্টো আমাদের প্রতি তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। তাই ডিবি কার্যালয়ে ছোট পরিসরে থাকা হাজতখানাটি ভেঙ্গে এখন আরো বড় করা হয়েছে। আগে হাজতের গেট খুলে আসামীদের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঝুঁকির চিন্তা থাকলেও হাজতখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ণের পর বর্তমানে এটির গেট না খুলেই বাহির থেকে ভিতরে থাকা আসামীদের খাবার সরবরাহ করা যাচ্ছে।’
ডিবির এই সিনিয়র কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ণে কোন সরকারী বরাদ্দ পাইনি বা চাওয়া হয়নি। যা করা হচ্ছে তার পুরোটাই নিজ উদ্যোগে করার চেষ্টা করছি। কারন, একজন মানুষ মৃত্যুর পরেও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে শুধুমাত্র তাঁর কর্মের মাধ্যমে। সরকারী চাকুরী কারো জন্যই কোথাও চিরস্থায়ী হয় না। তাই আমিও একদিন এখানে না থাকলেও যেন আমাকে মানুষ স্মরণে রাখে সেজন্য সাধ্য অনুযায়ী এখানে নিতান্তই প্রয়োজনীয় কিছু উন্নয়ণমূলক কাজ সকলের সুবিদার্থে করে যাচ্ছি।’
