বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদনগরে জনসাধারণের সুবিধার্থে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী জুয়েলী ভূঁইয়ার স্থাপিত নলকূপ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ওই নলকূপ উচ্ছেদ করতে যান। এসময় তাদের সাথে প্রয়োজনীয় লোকবল ও সরঞ্জাম ছিল। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে পড়েন তারা।
এলাকাবাসী জানায়, নাসিকের ১৮ নং ওয়ার্ডের শহীদনগরে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট চলছিলো। আমরা সিটি করপোরেশনে একটি বিশুদ্ধ পানির পাম্পের জন্য সাতবার আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।
জনসাধারণের দুর্দশা লাঘবে সম্প্রতি কয়েক লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেন ১৬, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী জুয়েলী ভূঁইয়া। ওই নলকূপ উচ্ছেদে আভিযানিক দল নিয়ে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কতিপয় পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা। তারা নিজেদের প্রথমে ওয়াসা’র লোক বলে পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের লোক হিসেবে এসেছেন।
নলকূপ উচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কোন কারন ও কোন কাগজপত্র তারা দেখা পারেনি। নলকূপ উচ্ছেদের চেষ্টাকালে স্থানীয় জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা নলকূপ উচ্ছেদে বাধা প্রদান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। জনসাধারণের তোপের মুখে সিটি করপোরেশনের লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হন। তারা সাদা কাগজে নিজেদের নাম ও পদবী উল্লেখ করে লোকবল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ‘বিশুদ্ধ পানির জন্য আমরা দীর্ঘ বছর অবর্ণনীয় কষ্ট করেছি। সিটি করপোরেশন কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেনি তখন। আমাদের দুর্ভোগ দেখে জুয়েলী ভূঁইয়া নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় কাউন্সিলর বিভা হাসান প্রতিনিয়ত তাকে জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভা নিজে এই এলাকায় কোনো উন্নয়নকাজ করেননি বললেই চলে। অথচ জুয়েলীর কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়ে তিনি নিজেকে অযোগ্য প্রমাণ করেছেন। এমন জনপ্রতিনিধি আমরা আর চাই না। আজ বিভার নির্দেশেই সিটি করপোরেশনের লোকজন এসেছে নলকূপ উচ্ছেদ করতে। পরবর্তীতে এমন হীন চেষ্টা চালালে জনগণ কঠোর থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে।’
একাধিক সূত্রমতে, অভিযানে যাওয়া সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন জনৈক হিরন, আলমগীর ও মিঠু।
এ বিষয়ে জুয়েলী ভূঁইয়া জানান, ‘আজকের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র বীভা হাসান দায়ী। তিনি প্রতিনিয়ত তার লোকজন দ্ধারা আমাকে প্রাণনাশ ও ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমার যেকোনো ভালো কাজে তিনি প্রতিকূলতা তৈরি করছেন। এমনকি আমি কোনো উন্নয়নকাজে সাহায্য করতে চাইলে তিনি সেখানেও বাধা দেন। আজ তিনি জনসাধারণের নলকুপ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে পাঠিয়েছিলেন। প্যানেল মেয়র বিভার স্বামী একজণ চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ভবিষ্যতে আমার যেকোনো প্রকার ক্ষয়-ক্ষতির জন্য বীভা দায়ী থাকবেন।
বিভা তার ব্যানার-পোস্টারে মেয়র আইভীর ছবি ব্যবহার করেন উল্লেখ করে জুয়েলী আরো বলেন, ‘ এমন উচ্ছেদ অভিযান মেয়রকে অবগত করা ছাড়া পরিচালিত করার কথা নয়। যদি মেয়র এই ব্যাপারে অবগত থাকেন, তাহলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় তিনি এড়াতে পারেন না।’
জুয়েলী আরো বলেন, ‘জনগণের কষ্ট দেখে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নলকূপটি স্থাপন করেছি। এলাকার শ্রদ্ধেয় মুরুব্বিগণ, যুব সমাজ, নারী সমাজ আমাকে একাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। অথচ আজ জনসাধারণের নলকূপ উচ্ছেদ করতে এসেছে সিটি করপোরেশনের লোকজন। জনগণের তোপের মুখে তারা এটি না করেই চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখনও নির্বাচনের তফসিলও ঘোষিত হয়নি। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চেষ্টা করছি। অথচ আমাকে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি এতে সামান্য পরিমাণ ভয়ও পাই না। বিপদের আশঙ্কা আছে জেনেও জনগণের ভালোবাসাকে পাথেয় করে আমি রাজনীতিতে এসেছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হিরনের নাম্বারে একধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

