বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে গুলিতে নিহত রিকশাচালক আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ১৪ নেতাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আমলী আদালতে পিবিআই পরিদর্শক আলমগীর হোসাইন এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ও ভাতিজা আজমেরী ওসমান। এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক, আশরাফ, ইয়াসিন আরাফাত রাসেল ও আবু বকর সিদ্দিক ওরফে আবুলও অভিযোগ পত্রভুক্ত আসামি।
এর মধ্যে মতিউর রহমান ও ইয়াসিন আরাফাত রাসেল বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকিরা সবাই পলাতক।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ জুলাই বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ৪০ বছর বয়সী রিকশাচালক আব্দুল লতিফ। পরদিন নিহতের বাবা মো. নেজাবুদ্দিন ৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগের ১২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নতুনভাবে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ও ওমর ফারুক প্রাথমিক এজাহারে ছিলেন না।
আব্দুল লতিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে আগামীকাল বুধবার। এরপর বিচারক শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন। ইতিমধ্যে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২৪ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দেশজুড়ে অর্ধশতাধিক মামলা হলেও এই প্রথম কোনো মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করল পিবিআই।