বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জুলাই আন্দোলনের খুনিদের বিচার না করে এই বাংলার মাটিতে কোন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এব এম সিরাজুল ইসলাম মামুন।
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে ৬ বছর বয়সী শিশু রিয়া গোপসহ সকল শিশু হত্যার দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে চাষাঢ়া কেন্দিয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এবি এম সিরাজুল ইসলাম মামুন বলেন, জুলাই আন্দোলনে যখন শিশুদের হত্যা করা হলো তখনই আল্লাহতালার আসমানে ফয়াসালা হয়ে গেছে এই জালেমকে আর রাখা যায়না। এই নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল। তার কোন বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। আশ্চর্য্য লাগে এত পুলিশ এত সেনাবাহিনী থাকতে এই খুনিরা কিভাবে পালিয়ে গেল। একটা হত্যাকারীকে ধরা গেল না। কারা এটা করলো এটার তদন্ত হওয়া দরকার। নারায়ণগঞ্জের একটা খুনিকে কেন ধরা যায় নাই। যারা প্রশাসনে আছেন এই দায় তাদেরকে গ্রহন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিবিসি এক অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে। শেখ হাসিনা নিজে এই হত্যাকান্ডের নির্দেশ দিয়েছে। আজকে এটা প্রমানিত হয়েছে। আজকে তাই জাতির প্রত্যাশিত হলো নির্বাচন নির্বাচন করলে হবে না। নির্বাচনের পরিবেশ দরকার। খুনিদের বিচার না করে এই বাংলার মাটিতে কোন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এই হত্যাকারী গডফাদারকে ইন্টারপুলের মাধ্যমে দেশে এনে ধরতে হবে। এই বিচারহীনতার কারনে এই খুন হত্যার সংস্কৃতি চলছে। হাজার হাজার নিরহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে আর কয়টার বিচার করা হয়েছে। আরেকটি আছে সেটা হচ্ছে বিচারকে বিলম্বিত করা। যে বিচারকে বিলম্বিত করা হয় সেখানে আর বিচারই আর থাকেনা। এক বছর হয়ে গেল কোন বিচার নাই। এ সমস্ত প্রহশনেরন বিচার জাতি আর দেখতে চায়না। সবাইকে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আজকে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলি মানবাধিকার কমিশনের নামে সমকামীতাকে প্রমোট করার পরিবর্তে এই জাতির জালিমদের বিচার দ্রুত করুন। জাতি দৃশ্যমান কিছু দেখতে চায়।
সমাবেশে শিশু কিশোরেরা- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাসার ছাদে গুলিতে নিহত ৬ বছর বয়সী রিয়া গোপ, ৪ বছর বয়সী আব্দুল আহাদ সহ আন্দোলনের শহীদ বিভিন্ন শিশু-কিশোরদের ছবি ও বিচারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানায় তারা।
এসময় ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ সহ আরো অনেকে।

