খেলাধূলাডেস্ক,বিজয় বার্তা ২৪
পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়ের রেকর্ডটা আর একটু সমৃদ্ধ হলো। আফ্রিদিদের বিপক্ষে ৭টি টি২০ ম্যাচ খেলে ছয়টিতেই বিজয়ী ভারত। এবার ব্যবধানটা কমার সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনে। জিততে তো পারলোই না উল্টো ভারতের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ে লজ্জায় পড়লো আফ্রিদিরা।
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপে ভারতের জয়যাত্রা চলছেই। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪৫ রানে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ধোনির টিম ইন্ডিয়া। পাকিস্তানের দেওয়া ৮৩ রানের জবাবে ১৫.৩ ওভারেই ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।
লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তানের মতো ভারতের শুরুটাও ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে রোহিত শর্মাকে এলবিডব্লিউ করেন সদ্য নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোহাম্মদ আমের। চতুর্থ বলে আবার ভারতীয় ইনিংসে আঘাত হানেন আমের। ধাওয়ানের বদলে খেলতে নামা রাহানেকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আমের।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে টি২০ তে ভারতের সবচেয়ে বিপদজনক ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নাকে ফেরত পাঠান এই বাম হাতি পেসার। আমেরের সুইং আর গতি বুঝে উঠার আগেই আউট হয়েছেন রায়না। ভারতের রান তখন মাত্র ৮। প্রথম সারির ৩ জন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ভারত তখন কাঁপছে।
সেখান থেকে ভারতকে টেনে তোলার কাজটি করছেন কোহলি ও যুবরাজ সিং। দুজনে মিলে সংগ্রহ করেন ৬৮ রান। এর মধ্যে কোহলি একাই করেন ৪৯ রান। দলীয় ৭৪ রানে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে আউট হবার আগেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন কোহলি। কোহলি আউট হবার পরের বলেই আউট হন হার্দিক পান্ডে।
বাকি পথটুক নির্বিঘ্েন পার করান যুবরাজ-ধোনি। যুবরাজ অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। শেষ বলেচার মেরে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন ধোনি।
এর আগে মিরপুরে ১৭ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ৮৩ রানে গুটিয়ে যায় শহিদ আফ্রিদির দল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ভারতের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড এটি। এর আগে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৪ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।
শনিবার হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে ম্যাচে টস ভাগ্যে জিতেছিল ভারত। মিরপুরের সবুজ উইকেট দেখে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। এরপর থেকেই বাকি গল্পটা ভারতীয় বোলারদের। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হাফিজকে ফিরিয়েছেন আশিষ নেহরা।
ওভারের তৃতীয় বলে কাভার অঞ্চল দিয়ে দারুণ একটি চার মেরেছিলেন হাফিজ। তবে চতুর্থ বলেই হাফিজকে ধোনির তালুবন্দি করেন ভারতীয় পেসার। পরে শেরজিল খানকে নিয়ে ১৮ রানের জুটি গড়েন খুররম মনজুর। তবে চতুর্থ ওভারে দলীয় ২২ রানে বুমরাহর বলে রাহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৭ রানে আউট হন শেরজিল।
ভারতের বোলারদের বিপক্ষে প্রথম থেকেই স্বস্তিতে ছিলেন না খুররম মনজুর। ১৮ বলে মাত্র ১০ রান করে রান আউট হয়ে ফিরে যান এই ওপেনার। দলের রান তখন ৩২। পাকিস্তানের বিপদ আরো বাড়িয়ে দেন শোয়েব মালিক। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের দিকে তাকিয়ে ছিল পাক সমর্থকরা।
তবে সবাইকে হতাশ করে দলীয় ৩৫ রানে পাণ্ডে বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে আসেন মালিক। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে উমর আকমলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন যুবরাজ সিং। পরের ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়ে পাকিস্তানি ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে ব্যর্থ হয়েছে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও। মাত্র ৪ রান করে জাদেজার বলে আউট হন ওয়াহাব রিয়াজ। সবোর্চ্চ ২৫ রান করা সরফরাজ খানকেও আউট করেন বাহাতি এই স্পিনার। মোহাম্মদ সামি ও মোহাম্মদ আমেরকে ফেরান হার্দিক পান্ডে।
টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে ভারত। এই পর্যন্ত ৬টি টি২০ খেলেছে দু’দল; যার ৪টিতেই জিতেছে ধোনির ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সর্বশেষ জয়টি এসেছিল মিরপুরেই। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল ভারত। ভারতের পান্ডে ৩টি ও জাদেজা দুই উইকেট নেন।
ভারত দল : রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডে, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, আশিস নেহরা, জাসপ্রিত বুমরা।
পাকিস্তান দল : খুরাম মনজুর, সারজিল খান, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, উমর আকমল, শহীদ আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ সামি, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ ইরফান।