বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হলুদ সাংবাদিক ও মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তিবর্গের কুপ্ররোচনায় দীর্ঘ দিন ধরে ঝগড়া করে আসছে বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকেই কলম ধরতে হবে। কারণ এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই অনেক কিছুর সূত্রপাত ঘটলেও নারায়ণগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত। আমার লজ্জা করে ঐতিহ্য হারিয়েছি কিন্তু তা ফিরিয়ে আনতে পারছিনা। আমি দুই বছরের বেশী সময় ধরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। অথচ আমারই ছোট বোন অত্যন্ত আদরের ছোটবোনের সঙ্গে শুধুমাত্র একবার ফুল বিনিময় করতে পেরেছি। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসতে পারিনি। কিছু ইয়েলো সাংবাদিক ও অপরাজনীতিবিদ তাদের চক্রান্তে আমার ছোট ভাই ও ছোট বোন দীর্ঘ দিন যাবৎ ঝগড়া করে আসছে। কিন্তু ঝগড়া দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয়না। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হয়। আল্লাহ মানুষকে ক্ষমতা দেন কিন্তু কারোই ক্ষমতার দম্ভ দেখানো ঠিক না। সে যেই হোকনা কেন। যদি আমরা নারায়ণগঞ্জের সকল এমপি ও মেয়র সহ সবাইকে নিয়ে এক টেবিলে বসতে পারতাম তাহলে ৬ মাসের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের সকল উন্নয়ন করা সম্ভব। এজন্য তারা যদি যেই জায়গায় যে কোন সময় একত্রিত হয়ে বসতে চায় তার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। আমাদের মধ্যে ইউনিটি প্রয়োজন ইউনিটি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না। কিন্তু আমরা একত্রে বসতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে বাধাসৃষ্টি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের খানপুর চিলড্রেন পার্ক মাঠে ১২ নং ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম ওসমান আরো বলেন,‘এ এলাকা অবহেলিত। রাজনীতি করতে গিয়ে পায়ে পারা দিয়ে অনেকই অনেক কিছু করে থাকে যার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধা পর্যন্ত আমাদের দেশকে উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করতে বিশেষ করে আমাদের শ্রমিকদের উৎখাত করতে আদমজী মতো অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের মিটিং মিছিল হলে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ ব্যক্তিবর্গ তথা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়া ঢাকা শহর অচল ছিল। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের অবদান সব সময়ই সবার উর্ধ্বে ছিল। হরতাল দূর করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সাদা পতাকা মিছিল করে হরতালকে দুর করতে সক্ষম হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ নিটওয়ারে বাংলাদেশের এক নাম্বার হয়েছি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
সেলিম ওসমান আরো বলেন,‘আমরা অনেকেই বাংলাদেশের ইতিহাস জানি না কিন্তু রাজনীতি করি। দেশের উন্নয়নের জন্য সর্ব প্রথমে ইতিহাস জানাটা আমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন। যেখানে যাই সেখানে শুধু জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগ অথবা বিএনপির মতো রাজনীতি গুলোকে চাঙ্গা করার জন্য অনুরোধ করা হয় কিন্তু দেশের উন্নয়নের কথা বলা হয় না। তবে আমি উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। বর্তমানে আমাদের দেশ একটি নি¤œ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে আমরা মোটা চাল ও মোটা কাপড়ের অধিকার আদায়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলাম। এখন আমরা পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়। আমরা বানাই বলে ইউরোপিয়ানরা সেটা পড়ে। এছাড়াও আমাদের দেশ চাল রফতানি করছে।
উত্তর চাষাঢ়া এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্যে প্রফেসর ড. শিরীন বেগম চাষাঢ়ায় মাদার্স ক্লাব পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। মিশনপাড়া মোড়ে একটি খালি জায়গায় বয়স্কদের জন্য বসার জন্য ও গভীর নলকুপ স্থাপনের দাবি জানান মিশনপাড়া পঞ্চায়েতের নেতা আরিফ দিপু। চাষাঢ়া বাগে জান্নাত এলাকায় শিশু কল্যাণ স্কুল মাঠ রক্ষা, বাগে জান্নাত জামে মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণে সহযোগিতা, এলইডি লাইট স্থাপন ও মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রোধে সড়ক নির্মাণের দাবি জানান পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাহমুদ। ডনচেম্বার মসজিদটি দোতলা করার দাবি জানান নজরুল ইসলাম নজর। ডনচেম্বারে মাতৃসদন নির্মাণ করার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা বেগম। এছাড়া নিউ খানপুর এতিম খানা, মাদ্রাসা ও ইসলামী কাফেলাসহ ১২নং ওয়ার্ডবাসীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বসতে চান। তাদের সমস্যা শুনবেন ও সমাধান করার ঘোষণা দেন। এছাড়া কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু খানপুর এলাকায় আরো ৪টি সামারসিবল টিউবওয়েল স্থাপন, উত্তর চাষাঢ়া থেকে খানপুর পর্যন্ত রাস্তায় আধুনিক এলইডি বাতি লাগিয়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, মশা নিধনের জন্য দুটি ফগার মেশিন প্রদান। এছাড়া স্থানীয় যুবকরা চিলড্রেন পার্কে ক্রিকেট অনুশীলনকারীদের খেলার সামগ্রী এবং পার্ক এলাকাকে ফ্রি ওয়াইফাই জোন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাসেম শকুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন এমপি সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন বেগম, বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক, মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি কাজিমউদ্দিন, সাবেক কমিশনার জয়নাল আবেদীন টুলু, সাবেক কমিশনার আজাহারুল ইসলাম, চাষাঢ়া পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন কামরান, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সভাপতি হারুনুর রশিদ বাবুলসহ ডনচেম্বার, খানপুর, ব্যাংক কলোনী, মিশনপাড়া, চাষাঢ়া, নিউ খানপুর সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ¯্রাধিক এলাকাবাসী। z
