বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, তে-ভাগা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শ্রমিক আন্দোলনের মহান নেতা বিপ্লবী কমরেড সুনীল রায় এর ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে ১০ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ৯ টায় নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর শ্বশানে সুনীল রায় এর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষী চক্রবর্তী, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এড. মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ খেলা ঘর এর সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ) এর নারায়ণগঞ্জ জেলার কমিটির সমন্বয়ক নিখিল দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রিয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সমমনা’র সভাপতি রীনা আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেত্রী শাহানারা বেগম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রোকন উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সভাপতি সজিব শরিফ প্রমুখ। এসময় কমরেড সুনীল রায় এর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন- কমরেড সুনীল রায় নারায়ণগঞ্জের সুতাকল, পাটকল গুলোর শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন মহান নেতা।সুনীল রায় স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা বাহিনীর ক্যাম্পে তার ভূমিকা ছিল অন্যান্য, তিনি শ্রমিক শ্রেণীর বন্ধু ও কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন।কমরেড সুনীল রায় ১৯২১ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করে ছিলেন।কৈশোরকালে তিনি নারায়ণগঞ্জে তার মাসির কাছে চলে এসে ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল লেখা-পড়া করা কিন্তু তা হয়ে উঠেনি।এখানে এসে কারখানা শ্রমিকদের অভাব-অনটন, মালিকদের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা শুনে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে জরিয়ে পড়েন।শোষণ মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে তুলেন।তখন সুনীল রায় এর পরিবারের অবস্থাও খুব শোচনীয় ছিল। যার ফলে তিনি চিত্তরঞ্জন কটন মিলে শ্রমিকের চাকুরি নিয়ে ছিলেন।শ্রমিকদের মধ্যে থেকে শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন, শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি গড়ে তুলেছেন। ১৯৪২ সালে সুনীল রায় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করে ছিলেন। মার্কসবাদ, লেলিনবাদের আদর্শ মনে প্রাণে ধারণ করেছিলেন ।শ্রেণী সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি অসংখ্য বার জেলে গিয়েছেন। শোষণ মুক্তি ও শ্রেণীহীন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের করার সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি শত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আদর্শ বিচ্যুত হয়নি।লাল পতাকা হাতে সংগ্রামের পথে চলেছেন অবিরাম। নেতৃবৃন্দ কমরেড সুনীল রায় এর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে চলমান সমাজ বদলের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার শপথ নেন ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীত গেয়ে সভা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

