বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লা থানার সিভিল টিমের এসআই সাফিউলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামালার তিন আসামীকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাত তিনটায় অভিযুক্ত তিন আসামীকে গ্রেফতার করে থানায় আনার পর রাতভর চলে আসামী বিক্রির দরকষাকষি। সবশেষে গতকাল রবিবার সকালে এসআই সাফিউল বাদিপক্ষের এক আত্মীয়কে জানান ‘ওসি সাহেব গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দিতে বলেছেন। কারন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, দুই মুক্তিযোদ্ধা থানায় গেছেন। তাদের তদবির আছে। কেন ছাড়ব? তা ওসি সাহেবই ভাল জানেন। এরপর এসআই সাফিউল থানায় গিয়ে থানা হাজত থেকে তিন আসামী যথাক্রমে রেজাউল করিম, সামছুল হক ও ফয়সালকে ছেড়ে দেন। এ নিয়ে ফতুল্লা থানার পুলিশসহ সকলের মধ্য চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানাগেছে, গত ০৮ অক্টোবর ফতুল্লা থানার নতুন কোট সংলগ্ন আদর্শ চাষাঢ়ায় হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া তার বাড়ির দেয়াল নির্মান করছিলেন। এসময় তার ভাই রেজাউল করিম, সামছুল হক ও ভাতিজা ফয়সাল এসে রাজমিস্ত্রিদের কাজ বন্ধ করতে বলে। এসময় রাজমিস্ত্রিরা বাড়ির মালিক হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়াকে ডাক দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাজমিস্ত্রি ও তার সহকারীকে আহত করে। এসময় হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী তাদের থামাতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও মারধর করে আহত করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদেরকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে আহতরা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে গত ১২ অক্টোবর রাতে হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেয়া হয় সিভিল টিমের এসআই সাফিউলকে। গত শনিবার রাত সোয়া দুইটার দিকে এসআই সাফিউল অন্য একটি পুলিশ দল নিয়ে মামলার ১নং বিবাদি রেজাউল করিম ও সামছুল হকের বাড়ি যান। এসময় অভিযুক্ত রেজাউল করিমের স্ত্রী পুলিশ সদস্যদের চোর-ডাকাতসহ নানা অশ্লীল মন্তব্য করেন। নানা অনুরোধ ও কাকুতি মিনতির পর বাড়ির ভেতরের লোকজন গেইট খুলে দিলে রেজাউল করিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সামছুল হকের বাড়িতে গেলে বাড়ির লোকজন গেইট খুলে দিলেও সামছুল হক ও তার ছেলে ফয়সাল বাড়িতে নেই বলে জানান। অনেক খোঁজাখুজির পর পুলিশ খবর পান অভিযুক্ত দু’জনকে ভাড়া ঘরের ভেতরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রয়েছে। পরে তালা ভেঙ্গে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই খবর শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড় এলাকায় অভিযুক্ত আসামী রেজাউল করিমের শ^শুর বাড়িতে পৌঁছলে সেখান থেকে ১০/১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নতুন কোট সংলগ্ন আদর্শ চাষাঢ়ায় হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে আসে। এই সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা পুলিশের সামনেই মামলার বাদিকে গুলি করে হত্যার হুমকী দেন।
রাত ৩টার দিকে গ্রেফতারকৃতদেরকে থানায় নিয়ে রাখার পর শুরু হয় বিএনপি প্রভাবশালী একটি মহলের তদবির। মহানগর যুবদলের নেতা মনা সর্দারের ছেলে মন্টি দাবি করেন গ্রেফতারকৃত রেজাউল করিম তার খালু শ^শুর। তাকে রাতে হাজতের বাইরে ফ্যানের নিচে রাখতে। তাদের দাবি অনুযায়ী থানা হাজতের বাইরে জামাই আদরে রাখা হয়। বেলা ১১টার দিকে আসামীদের আত্মীয়দের কাছ খেকে কয়েক লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে এসআই সাফিউল মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালি মাহমুদ খানের জিম্মায় আসামীদের ছেড়ে দেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ অঞ্চল শরফুদ্দিন জানান, হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের পর টাকা খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে এমন প্রমান পেলে অভিযুক্ত এসআই সাফিউলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেয়া হবে।
