বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নারীকে ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে অপহরণ, মারধর ও বিকাশ-নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামের মো. শ্যামল ভূঁইয়া, সুমন ও ইউসুফ। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠিয়ে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শীলমান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। পরে তিনি নিজেকে আড়াইহাজারের একটি প্রাচীরঘেরা টিনশেড ঘরে আটক অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে তাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৭০ হাজার টাকা আদায় করে। এছাড়া তার কাছে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ডেবিট কার্ড, এক লাখ টাকার স্বাক্ষর করা চেক, একটি স্বর্ণের আংটি ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা নারীকে ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করত এবং পরে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বজলুর রহমান আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেন, “আসামিদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হতে পারে এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।”
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় দণ্ডবিধির অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, আঘাত ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
