বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের কালিরবাজারের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে প্রবীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি পিন্টু দেবনাথকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছে আদালত। তার দোকানের কর্মচারী বাপন ভৌমিককে ৭ বছারের সশ্রম কারাদণ্ড সেই সাথে আরো ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমান আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় খালাস পেয়েছেন হত্যায় প্ররোচনার দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার আমলাপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলার চার্জশীট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হয়। প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যায় ২০৩ পাতার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়।
আদালত সুত্রে জানাযায়, ২০১৮ সালের ১৮ জুন বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কালিরবাজারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। এ ঘটনার পর স্বর্ন ব্যবসায়ীর প্রবীর ঘোষের ছোট ভাই বিপ্লব ঘোষ বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন। নিখোঁজের তিনদিন পর প্রবীর ঘোষের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে বিপ্লব ঘোষের মোবাইল ফোনে এক কোটি টাকা মুক্তিপন চেয়ে একটি মেসেস পাঠায়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ওই মেসেজের সুত্র ধরে ওই বছরের ৯ জুলাই পিন্টু দেবনাথের স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী বাপেন ভৌমিককে কালিরবাজার থেকে গ্রেফতার করে। তার স্বিকারোক্তি অনুযায়ী প্রবীর ঘোষের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এবং প্রবীর ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথকে গ্রেফতার করে । পরে তার দেখানো মতে আমলাপাড়া পিন্টু দেবনাথ যে বাসায় ভাড়া থাকতো ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে পলিথিনের ব্যাগে ভরা পাচঁ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরের দিন ওই বাসার পেছনের ডা: নুরুল ইসলামের বাড়ির গলি থেকে আরো দুই টুকরা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পিন্টু দেবনাথ, বাপন ভৌমিক ও সেলিম মিয়াকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। আদালতে ময়না তদন্তকারি ডাক্তার ও ১৬৪ ধারায় আসামীর জবানবন্দি রেকর্ডকারি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৭ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত করেন।
আদালত ৩০২ ধারায় পিন্টু দেবনাথকে মৃত্যুদন্ড এবং বাপেন ভৌমিক সাত বছরের কারাদন্ড প্রদান করে। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।
রায় মামলার বাদি বিপ্লব ঘোষ সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, এই রায় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে যত দ্রত কার্যকর হলেই আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তিপাবে।
