বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতীয় সংগীত, পতাকা উত্তোলন, পায়রা উত্তোলন ও পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে ঝাকজমকপূর্নভাবে আলীগঞ্জ ক্লাব বনাম কলকাতা রাজপুর ফুটবল স্কুল কোচিং সেন্টার এর মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৩টায় আলীগঞ্জ মাঠে এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি শ্রমিকনেতা আলহাজ্ব কাউছার আহমেদ পলাশ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রীড়া সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আকসির, কলকাতা রাজপুর ফুটবল স্কুল কোচিং সেন্টারের কোচার সুজিত কুমার শ্যামন্ত, ফতুল্লা থানার ওসি কামাল উদ্দিন, ওসি(তদন্ত) শাহজালাল, ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ গার্মেন্টস ওয়ার্কাস নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাত্তার, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজকে একটি সুন্দর খেলা উপহার দেয়ার জন্য দুই দলকে অভিনন্দন জানাই। দুই দলই ভাল পারফরমেন্স করেছে। খেলায় হার জিত বড় কথা না এ খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য খেলাধূলা কমে যাওয়ার কারনেই বর্তমানে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এবং মাদক দ্রব্যের বিস্তার লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের মাদক ও জঙ্গীবাদ হতে দূরে রাখতে খেলা ধূলার জন্য খেলার মাঠ অতি প্রয়োজন। এই আলিগঞ্জ মাঠটি এই এলাকার ছেলে মেয়েদের খেলাধূলার উপযোগী করার জন্য সরকার যেন পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয় শেই আশা ব্যক্ত করছি। এই খেলাটি একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলা হয়েছে। শ্রমিক নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ সব সময়ই যেন এই মাঠটিতে আজকের মত খেলাধূলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তার অনুরোধ করেন।
কাউছার আহমেদ পলাশ বলেন, আমাকে যখন ফোন করে বলা হলো আলীগঞ্জ ক্লাবের সাথে কলকাতা রাজপুর ফুটবল স্কুল কোচিং সেন্টার এর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে হবে। কিন্তু মাঠ তখন খেলার উপযোগী ছিল না। তখনই আমি তাৎক্ষণিক ভাবে সবাইকে নিয়ে মাঠ সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী করে তুলি। মাঠের এই বেহাল দশার পরেও তারা একটি সুন্দর খেলা উপহার দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একসময় আমরা এই মাঠে খেলাধূলা করেছি। ওই সময়ে এই আলীগঞ্জ খেলার মাঠটি দখল ছিল। মাঠের বেশীরভাগ জায়গা ইট পাথর রেখে কিছু সংখ্যক লোক অবৈধভাবে ব্যবসা করতো। আমি এলাকার সবাইকে সাথে নিয়ে এই খেলার মাঠটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করি। আমরা মাঠ দখল মুক্ত করে খেলার উপযোগী করেছি। এই আলীগঞ্জ খেলার মাঠটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মাঠ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করি ও হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করি। আলীগঞ্জ রক্ষর্থে হাইকোর্ট তদন্তের জন্য নির্দেশে দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই মাঠ পাবো।
তিনি আরও বলেন, মাঠ রক্ষা করতে গিয়ে তখন আমার সাথে অনেক সমস্যা হয়েছে। আমাকে মোবাইল ফোনে হত্যার করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই কথা শুনে নারায়ণগঞ্জ জেলা লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আমাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে রাস্তার নেমে এসে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছি। তার জন্য আমাকে বহুবার মামলার আসামী হয়ে জেল জুলুম হামলার শিকার হতে হয়েছে। আমাকে মারার বহু বার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আল্লাহ্র রহমতে বেচে আছি। নিজের স্বার্থের জন্য কোন একটি মামলাও আমার বিরুদ্ধে নেই। আলীগঞ্জ খেলার মাঠটিকে ভালবাসি এলাকার মানুষদের খেলাধূলার পরিবেশ তৈরির জন্য অন্য কোন ব্যক্তিগত স্বার্থে না। আমার জীবন থাকতে এলাকার সবস্তরের সবাইকে নিয়ে এই মাঠে কাউকে একটি ইটও বসাতে দিবো না।

আলীগঞ্জ ক্লাবের সাথে কলকাতা রাজপুর ফুটবল স্কুল কোচিং সেন্টারের এর মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি ৩-১ গোলে আলীগঞ্জ ক্লাবকে হারিয়ে বিজয়ী হয় কলকাতা রাজপুর ফুটবল স্কুল কোচিং সেন্টার।
খেলোয়াদের সুবিধার্থে শ্রমিকনেতা আলহাজ্ব কাউছার আহমেদ পলাশ তার নিজস্ব তহবিল থেকে ফুটবল খেলার বোর্ড কিনার জন্য প্রতিটি খেলোয়ারকে নগদ অর্থ প্রদান।



