বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নবী রাসূলের দেশ সৌদি আরবকে অনুসরন করে দেশের বিভিন্নস্থনে ঈদ উল ফিতর পালিত হচ্ছে। রোববার (২৫) জুন হানাফি (রাঃ) মাযহাবের অনুসারীরা আরব দেশের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশের স্বাভাবিক নিয়মের বদলে একদিন আগেই এরা রোজা রাখেন এবং ঈদ পালন করে। বর্তমানে বাংলাদেশের উল্লেখিত এলাকা সমুহের সর্বমোট পাচঁ লক্ষাধিক মুসলমান রয়েছে জানা গেছে। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া-এই এলাকার হানাফি (রাঃ) মাযহাবের অনুসারীরা রোববার (২৫ জুন) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেন। সকাল সাড়ে ১০ টায় লামাপাড়ায় হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজ খানা মাদ্রাসায় ‘জাহাগিরিয়া তরিকার কয়েক শত অনুসারী ঈদের জামাতে অংশগ্রহন করেন। এই দিন এই সম্প্রদায়ের অনুসারীরা গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পুরাতন ঢাকা, ডেমড়া, সাভার, নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও ও বন্দর এলাকা থেকে এসে সমবেত হন এবং সকলে একসাথে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেন হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া মাদ্রাসার মুফতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন শুভ। ঈদের জামাত শেষে তিনিও একে একে উপস্থিত মুসুল্লীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। চাদঁপুরের প্রায় ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন-রোববার (২৫ জুন) চাদঁপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা বাংলাদেশের স্বাভাবিক নিয়মের ১ দিন আগেই রোজা এবং ঈদ পালন করে থাকেন। ৮৮ বছর ধরে তারা এই নিয়মে রোজা এবং ঈদ পালন করেন বলে জানা গেছে। সাদ্রা সহ হাজীগঞ্জের ৪০ টি গ্রামে এই নিয়মের ঈদ পালন করলো তাদের অনুসারীরা। গ্রামগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য যে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখান, শ্রীপুর, মনিহার,বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালবো, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জের শাচন মেঘ, বিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রুপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট। মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়ের গাঁও, বেলতলী সহ কয়েকটি গ্রামে আজ রোববার পালিত হলো এই সম্প্রদায়ের ঈদুল ফিতর। এছাড়াও চাদঁপুরের পাশে নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা এই দিন ঈদ উদযাপন করেন বলে জানা গেছে। ১৯২৮সালে হাজীগঞ্জের রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইছহাক খান আরব দেশের সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপনের প্রস্তুুতি নেন কিন্তুু স্থানীয় গ্রামবাসীর কারনে তখন তার এই উদ্যোগ ভেস্তে যায় এবং দেশের প্রচলিত নিয়মের বাইরে এই ধারা সৃষ্টি করতে চাওয়ায় সেই সময় উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদ থেকে চাকুরী চলে যায় তার। এর পরে ধনী ও জমিদার পরিবারের সন্তান মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক খান চলে আসেন একই উপজেলার নিজ গ্রাম সাদ্রায়। এবং একই বছর তার গ্রামে তিনি আরব দেশের নিয়মে ধর্ম কর্ম চালু করেন। এবং এই নিয়মের ওই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন তিনি, পাশাপাশি সে এলাকার অসহায়, গরীব ও দুস্থ মুসলমান দের প্রচুর আর্থিক সাহায্য দিয়ে আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রথা চালু করেন। মাদারীপুরের কয়েকটি গ্রামে একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করা হয়-এই এলাকায় হযরত সুরেশ্বরী (রাঃ)এর অনুসারীরা রোববার (২৫ জুন) ঈদ পালন করেন। জেলার সদর উপজেলার পাচঁখোলা, জাজিরা ,মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চর কালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচর, গোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারপুর, কুনিয়া, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেব রামপুর, আন্ডারচর, অলীনগর, বাশঁগাড়ী, খাসের হাট, রামারপোল, ছবিপুর, ছিলিমপুর, ক্রোকিরচর, রাজারচর, শিবচরের পাচ্চর, স্বর্ণকারপট্রি । মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার পাচঁখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ১০ টায়, এতে ইমামতি করেন মাষ্টার আবুল হাশেম মিয়া। অপরদিকে শিবচরের আন্ডারচর খানকায়ে শরীফ মাঠে রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, এই জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোকসেদ আলী মিয়া। জানা গেছে সুরেশ্বর দরবার প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর অনুসারীরা ১৪৫ বছর ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করেছেন। দক্ষিন চট্রগ্রামের সাতকানিয়ার কয়েকটি গ্রামে রোববার (২৫ জুন) পালিত হলো পবিএ ঈদুল ফিতর-২ শত বছর আগে মির্জাখালী দরবার শরীফের তৎকালীন গদিনশীন শাহ্ সুফী মমতাজিয়া (রাঃ)আরব দেশের সাথে মিল রেখে ধর্মীয় কর্মকান্ড করতে শুরু করেন। এর পর থেকেই তার অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ পালন শুরু করেন যা আজো বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে দক্ষিন চট্রগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশের কাঞ্চন নগর সহ এই অঞ্চলের প্রায় ৫০টি গ্রামে ৫ হাজার পরিবারের ২লক্ষাধিক মুসলমান যারা মির্জাখালী দরবার শরীফের অনুসারী তারা সকলেই এই দিন পবিএ ঈদুল ফিতর পালন করেন। এই দিন তাদের অনুসারী বরিশাল ও পটুয়াখালীর কয়েকটি গ্রামে ও পালিত হয় ঈদ, বাবুগঞ্জের ওলানকাঠি এলাকার সরোয়ার খান বাড়ী, খানপুরার জাহাঙ্গীর শিকদার বাড়ী, কেদারপুরের মাস্তান হাওলাদারের বাড়ী ও মাধবপালের দুয়ারী বাড়ী সহ পটুয়াখালীর নিশানবাড়িয়া, বাউফলের মদনপুরা, বগা, জৌতা, শাবুপুরা, বিলানা, কাছিপাড়া, গলাচিপার ভাউকা, কলাপাড়া, বরিশালের সাগরদী, দাসকাঠী এবং টিয়াখালীর চৌধুরী পাড়ায় এই দিন পালিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর।
