বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউছার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পলাশ।
সোমবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের নারায়ণঞ্জ প্রেস ক্লাবে মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পলাশ বলেন, গতকাল ৬ মে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘এক পলাশেই সর্বানাশ, নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক লীগের নামে তান্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ টি শিল্প কারখান বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ শীর্ষক যে সংবাদ আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার প্রতিপক্ষের হয়ে পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি এ সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইবো। সেই মনোনয়ন যেন না পাই সেই উদ্দেশ্যে ইত্তেফাক, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন সহ কয়েকটি পত্রিকায় সিন্ডিকেট নিউজ করানো হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রে আসনের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও সম্পৃক্ত। তারই ধারবাহিকতায় সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।
এসময় সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট করে মনোনয়ন প্রার্থী প্রতিপক্ষের নাম জানতে চাইলে পলাশ বলেন, আসনে নিজ দলসহ বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশিরা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে গত ২৮ জানুয়ারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদের আমার বাসায় আসার পর থেকেই প্রতিপক্ষরা আামর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসব বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে।’
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সাথে আপনার বর্তমান সম্পর্ক এমন প্রশ্নের জবাবে পলাশ বলেন, ‘উনি আমার সিনিয়র নেতা। আমাদের সম্পর্ক বড় ভাই ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক ।’ বড় ভাই কি ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে কখনো অপপ্রচার চালাতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি মনোনয়ন যুদ্ধে আমার প্রতিপক্ষরা এসব অপপ্রচার করে থাকতে পারে। সেটা আওয়ামীলীগ বা বিএনপি যে কোন দলের কেউ হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, অদ্ভুদ নিউজে আরো প্রকাশিত হয়েছে আমার নেতৃত্বে ৭৪ টি শ্রমিক সংগঠনের অত্যাচারে নাকি ৩৬ টি শিল্প কারখান বন্ধ হয়ে গেছ। কিন্তু রিপোর্টার ওই ৮ টি শিল্প কারখানার নাম ছাড়া বাকি কারখানার নাম দিতে পারেন নি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে পাইওনিয়ার ছাড়া সব গার্মেন্ট চালু আছে। মিথ্যার বেসাতি আর কাকে বলে।
তিনি আরো বলেন, সংবাদে প্রকাশ হয়েছে পাগলা থেকে আলীগঞ্জ পযর্ন্ত কয়েক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নাকি আমি ভেঙেছি। অথচ পাগলার মেরি এন্ডারসন থেকে আলীগঞ্জ ফিশারিজ ঘাট পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা তীরে ওয়াক ওয়ে বানোনো ই হযনি। যেটি বানোনো হয়নি সেটি ভাংবো কিভাবে ? আরো বলা হয়েছে আমি একনেক অনুমদিত কাজে বাধা দিচ্ছি। মূলত আলীগঞ্জ মাঠ ধ্বংস করে এখানে সরকারি ভবনের পরিকল্পান হয়ছে। তাই মাঠ রক্ষার দাবিতে এলাকার ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর নিয়ে জেলা প্রশাসকরে মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি যখন আদালরেত বিচারধীন রয়েছে তখন বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা আদালত অবমাননার শামিল ।
এ প্রসঙ্গে অবৈধ দখলে পলাশের বিরুদ্ধে বিআইডাব্লিউটিসির জিডির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পলাশ বলেন, আমার ধারনা বিআইডাব্লিউটিসি ও ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের অবৈধ জায়গা দখলে বাঁধা দেওয়াতে আমাকে ঠেকানোর জন্যই তারা জিডি করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জি.এম আরাফাত, জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ন কবির, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স এর জেলা কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, আন্তজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন দক্ষিন বঙ্গের লাইন সম্পাদক আবুল হোসেন প্রমুখ।

