বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আবারো নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের কাছে সহযোগীতা কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জকে দুহাত ভরে দিচ্ছেন। শীতলক্ষ্যা সেতু দিয়েছেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেললাইন হবে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুট চারলেন করা হবে। বন্দরের মদনগঞ্জের শান্তিরচরে নীটপল্লী গড়ার আবেদন করার মাত্র ২১ দিনের মাথায় তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে যেখানে ময়মনসিংহ পট্টি ছিল সেখানে একটি ইকোপার্ক নির্মাণের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কোন উদ্যোক্তা পাচ্ছি না। নীটপল্লীর জন্যও কোন উদ্যোক্তা পাচ্ছি না। নারায়ণগঞ্জের যেমন সুনাম আছে তেমনি অনেক বদনাম আছে। একটা সময় নারায়ণগঞ্জ একমাত্র শহর ছিল যা কিনা বিশ্বের মধ্যে সব থেকে বেশি বাণিজ্যিক আয়ের শহর ছিল। যার জন্য নারায়ণগঞ্জকে প্রাচ্যেরডান্ডি বলা হতো। আমরা সেই সব কিছু হারিয়েছি। সেগুলো ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছেন। আর এরজন্য আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংবাদিক ভাইদের সহযোগীতা। আপনার সমালোচনা করেন আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু কিছু কিছু পত্রিকায় এমন ভাবে নিউজ প্রকাশ করা হচ্ছে যেন নির্বাচন এসে গেছে। উনারাই মনোনয়ন দিয়ে দিচ্ছেন। আমি সকলের প্রতি আহবান রাখবো আসেন একটু রাজনীতিকে দূরে রেখে আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে নারায়ণগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শহরের বরফকল খেয়াঘাট সংলগ্ন চৌরাঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের তত্ত্ববধানে বিআইডব্লিউটিএ এর ইকো পার্ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম থাকলেও উনারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে পরিবারকে নিয়ে এতো লেখালেখি কেন করা হচ্ছে বুঝি না। একটি মাত্র মামলা হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেই মামলাকে আমি সাধুবাদ জানাই। সাংবাদিক ভাইয়ের ভুল থাকলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন কিন্তু মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে অপরাজনীতিকে উৎসাহিত করবেন না।
সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নৌ-মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, পাশেই বিআইডব্লিউটিএ এর একটি জায়গা রয়েছে। যেটি বরফকল মাঠ হিসেবে পরিচিত। এই মাঠে খেলাধূলা করে নারায়ণগঞ্জের অনেকে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখেছে। বিআইডব্লিউটিএ সেখানে একটি গোডাউন করতে চাইছে। আমি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজের নেতা হিসেবে বলবো পোর্টের পাশে গোডাউনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য। তবুও আমি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ রাখবো নারায়ণগঞ্জের যুব সমাজের স্বার্থে বিআইডব্লিউটিএকে একটি ছাড় দিতে হবে। যুবকের খেলাধূলার বিকল্প কোন স্থান তৈরি না করা পর্যন্ত এই মাঠটি খেলারধূলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন সেলিম ওসমানের এমন দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠটি খেলার জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। সেই সাথে খেলাধূলার বিকল্প মাঠ তৈরি না করা পর্যন্ত সেটি খেলার মাঠ হিসেবেই থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে সেলিম ওসমান আরো বলেন, নদীর পাশে ইকোপার্ক নির্মাণের জন্য আরো অনেক জায়গা রয়েছে। যেগুলো তৈরি করতে পারলে নারায়ণগঞ্জ একটি পর্যটন নগরীতে পরিণত হতে পারে। ময়মনসিংহ পট্টির জায়গা ছাড়াও বন্দরে সাবদীতে একটি জমি আছে যেটি খুবই মনোরম পরিবেশ। এছাড়াও লাঙ্গলবন্দে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে মোট ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হবে। আমি মন্ত্রী মহোদয় সহ বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো সাবদীর জায়গাটি সরেজমিনে একদিন পরিদর্শন করবেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান সহ সকল কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সাবদী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জসিম উদ্দিন হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) মোস্তাফিজুর রহমান, লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বাদল। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আবুল জাহের

