বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মাদক-সন্ত্রাস-মামলার রহস্য উদঘাটনসহ ফতুল্লার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূন ভূমিকা রাখায় পূর্বের ন্যায় আবারো জেলার শ্রেষ্ট ওসি হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ও থানার এস আই মিজানুর রহমান-২ এবং এ এস আই কামরুল হাসান। গতকাল রোববার জেলা পুলিশ সুপারের মাসিক কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক (পিপিএম) এর কাছ থেকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেনসহ তার থানায় কর্মরত এস আই মিজানুর রহমান-২ এবং এ এস আই কামরুল হাসান পুরষ্কার গ্রহন করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কামাল উদ্দিন ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে ফতুল্লার আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে তার থানায় কর্মরত অফিসারদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। এমনকি ফতুল্লাবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে থানার অফিসারদের মধ্যে দক্ষ অফিসার বাছাই করে দুটি সিভিল টিম গঠন করে। এস আই মিজানুর রহমান-২, এস আই এনামুল হক, এ এস আই তাজুল ইসলাম এবং এ এস আই কামরুল হাসানকে দিয়ে গঠিত দুটি সিভিল টিম ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমান মাদক, অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, মামলার তথ্য উদঘাটনসহ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিতির মাধ্যমে ফতুল্লার আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূন ভূমিকা পালন করে আসছে। আর সুযোগ্য ওসি কামাল হোসেনের নিয়ন্ত্রনে গঠিত যোগ্য অফিসারদের নিয়ে সিভিল টিমের কার্য্যক্রমের ভূমিকা পালনে ওসি কামাল হোসেন সফলতা লাভ করেছে এমনকি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বারংবার জেলার শ্রেষ্ট ওসি হিসেবে তার পুরষ্কার লাভ করার মাধ্যমে এটা প্রমানিত হয়েছে বলেও ফতুল্লাবাসী মনে করেন।
এছাড়া ওসি কামাল হোসেন যোগদানের তিন মাসের মাথায় ওসি কামাল উদ্দিন ঢাকা রেঞ্জের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে ঢাকার ডি আইজির হাত থেকে পুরস্কার এনে ফতুল্লাবাসীর মুখ উজ্জল করেছে। গত বছর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর, ২০১৭ সালের জানুয়ারি ,ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিলে কর্মদক্ষতার পুরস্কার পেলে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দিন। ওসি কামাল উদ্দিন থানায় কর্মরত অফিসারদের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করার জন্য প্রতিদিন ফতুল্লা এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘুরে দেখেন তার দারোগারা ঠিক মতো ডিউটি করছে কিনা। তিনি নিয়মিতি তাঁর অফিসারদের নিয়ে রোলকল এবং কাজের গতি বৃদ্ধির লক্ষে মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসারদের দিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন।। প্রত্যেক অফিসারদের ডিউটি শেষে কে কি ভালো কাজ করেছে তার সম্পর্কে তথ্য নিয়ে নিজের থেকে তাঁর অফিসাদের ভালোকাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে সাধুবাদ জানানো হয়। যারা কাজে ফাঁকি দেয় তাদেরকে সে কড়া ভাষায় শাসন করেন এমনটাই বলেন তার সাথে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। ফতুল্লা থানর ওয়ারেন্ট তামিল ,মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাস দমনেসহ নানা কাজের দক্ষতায় জেলার অন্যান্য থানার চেয়ে সে শীর্ষে থাকায় জেলার সু যোগ্য পুলিশ সুপার মঈনুল হক নিজের হাতে ওসিসহ তার দক্ষ এস আই ও এ এস আইদের পুরস্কৃত করেন । তার পূর্বে অনেক ওসি এই থানায় যোগদান করেছে । আবার অনেকে চলে গেছে। কিন্তু তার মতো কাজের দক্ষতায় এভাবে মাসে মাসে পুরস্কার পাইনি কোন ওসি এমন মন্তব্য ফতুল্লার সচেতন মহলের। তবে পুলিশি পুরস্কার না পেলেও সাবেক ওসি আলহাজ্ব শফিউল্লাহ , ওসি জীবন কান্তি সরকার, ভূইয়া মাহবুব হাসান,আব্দুল মতিন ,আক্ত্র হোসেন এরাও ফতুল্লা থানার জনগনের কাছে ভালো মানুষের সনদ নিয়ে ছিলেন। জীবন কান্তি সরকার ও শফিইল্লাহ কাজের ধরন এবং বিভিন্ন বিষয়ের সাথে ফতুল্লার বর্তমান ওসি কামাল হোসেনের সাথে অনেকটাই মিল আছে এমনটাই দেখছেন ফতুল্লাবাসী। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল, যানবাহনের সংখ্যা সংকট থাকার পরেও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সফলতাই ফতুল্লা বাসীর পরম পাওয়া। ফতুল্লা মডেল থানার অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনে রাতে যারা জনগনের সেবায় সব চেয়ে বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে এরাই জেলা পলিশ সুপারের কাছ থেকে পুরষ্কার লাভ করলেন। এদিকে এস আই মিজানুর রহমান-২ ও এ এস আই কামরুল হাসান মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিলে জেলার সবার শীর্ষে থাকা কল্যান সভায় পুরস্কার পেলেণ। এই মাসিক মহতী কল্যান সভায় অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডি এস বি) ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক’ সার্কেল মোঃ শরফুদ্দীন, গ সার্কেল আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং ডিবিসহ জেলার ৭টি থানার ওসি।

