বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা নজরুল ইসলাম আজাদকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর মৎসজীবী দলের সাধারন সম্পাদক পারভেজ মল্লিক বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহানগর যুবদল নেতা মোঃ রাশেদুল ইসলাম ।
মঙ্গলবার ( ৫ জুন ) গনমাধ্যমে কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশেদুল ইসলাম এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান । তিনি বলেন, পারভেজ মল্লিকের মতো একজন যুবদলের নামধারী নেতা কিভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটির একজন সুনাম ধন্য নেতা কে নিয়ে এমন বিভ্রান্তি মূলক বক্তব্য দেয় । এই সাহস সে কোথায় পায় । বিগত দিনে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করে বিতর্কিত হয়েছিল। গত নগর বিএনপির কমিটির সময়ে বর্তমান মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে আসছিল । পরে সেই এটি কামাল কে লেঙ্গ মেরে বর্তমানে পাড়ি জমিয়েছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে । বিতর্কিত এই পারভেজ এড. সাখাওয়াতের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু সহ বেশ কয়েক জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে অশালীন আচরন করেন । পারভেজ মল্লিকের মতো একজন বিতর্কিত কর্মী বিএনপির বড় বড় নেতাকর্মীদের সাথে অশালীন আচরণ করার সাহস কোথায় পেলো । এই পারভেজ কে মদদ দিচ্ছে কিছু বিএনপির নামধারী নেতারা । তাই তার মতো এই সব বিতর্কিত কর্মীদের বিএনপি তথা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ সকল কমিটি হতে দূরে রাখতে হবে । তা নাহলে এই বিতর্কিত কর্মীর কর্মকান্ডের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং একদিন তার জন্যই দলকে মাশুল গুনতে হতে পারে ।
প্রসঙ্গতে, গত ( ৩-০৬- ১৮ ) ইং তারিখে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ কে নিয়ে তার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিতর্কিত বক্তব্যে দেয় পারভেজ মল্লিক।
জাকির খান সমর্থিত পারভেজ মল্লিক‘র গনমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যটি তুলে ধরা হল, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের মত নেতাই যথেষ্ট।যারা ঢাকা অভিজাত রেষ্টুরেন্টে বসে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বুঝান যে, টাকা ছাড়া বিএনপিতে কোন পদ পদবী পাওয়া যায় না। তারাই মূলত বিএনপিকে ধ্বংস করছে। এধরনের বক্তব্য প্রদান করে তারা নেতাকর্মীদের মনে আঘাতের সৃষ্টি করা ছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে গড়া জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এদের মত নেতাদের দল থেকে বহিস্কার করা দরকার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পারভেজ মল্লিক বলেন, নজরুল ইসলাম আজাদ মূলত আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তিনি দলের মধ্যে থেকে দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করার মিশনে নেমেছেন। এ ধরনের নেতাদের আর নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন কর্মসূচীতে যদি আজদকে দেখা যাবে, তাহলে সেখানেই তাকে জুতাপেটা করা হবে বলেও ঘোষণা দেন এ নেতা।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের অনুরোধ জানাবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের কথা চিন্তা করে তারা আজাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কারণ, শহীদ জিয়ার আদর্শ হলো “ ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ”। একজন দূর্ণীতিবাজ ব্যক্তির জন্য তো আর দলতে ক্ষতিগ্রস্থ করা যাবে না।
তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে শুধু একটি নয়, সহ¯্রাধীক অভিযোগ আছে। তিনি প্রয়াত জননেতা আরাফাত রহমান কোকো সাহেবের নাম বিক্রি করেছেন, তার স্ত্রীর নাম বিক্রি করেছেন। আরাফাত রহমানের শ্বশুর মারা গেছে, তিনি বলেছেন সমস্ত বাজারের টাকা-পয়সা নাকি তিনি দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের এধরনের কথাবার্তা বলে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বাড়ানো চেষ্টা করছেন। মূলত আজাদ যেখানে সেখানে যত্রতত্র জিয়া পরিবারের নাম বিক্রি করে চলেছেন। এভাবে তিনি দিনের পর দিন জিয়া পরিবারকে কলঙ্কিত করছেন। তাই, এক কথায় বলতে গেলে, জিয়া পরিবার ও বিএনপির জন্য আজাদ একটি কলঙ্কের নাম। এধরনের নেতাদের আমরা প্রত্যাক্ষান করি জাকির খান যত দিন বেচেঁ থাকবে এই সুবিধাবাদীদের সুবিদা নিতে দিবো না।
