বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার এই নারায়ণগঞ্জ। আমাদের সকল সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ থেকে গড়ে উঠেছিল দূর্বার আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন, সংগ্রামে সাথে সাথী ছিল এই নারায়ণগঞ্জ। শীতলক্ষ্যা পাড়ে এই পূণ্যভূমিতে এসে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে এই নারায়ণগঞ্জে কোন সমাবেশে আমার প্রথম আগমন। এই অনুষ্ঠানটি স্কুল নিয়ে, স্কুলের দাবি দাওয়া নিয়ে এবং স্কুলের সকল বিষয় এখানে আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। সেলিম ওসমান সাহেব আমার একজন প্রিয় মানুষ। তার এত গুণের সমাহার একজন মানুষের মধ্যে এটি ভাবতেও অবাক লাগে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সফল ব্যবসায়ী, একজন সফল শিল্পপতি, একজন সফল কৃষক, একজন সফল সংগঠক, একজন সফল শিক্ষানুরাগী এবং সবশেষ একজন সফল রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি। একজন মানুষের মধ্যে এত গুনের সমাহার তিনি হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় সেলিম ওসমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ত্রিবোনী মিনারবাড়ি এলাকায় শামসুজ্জোহা মুছাপুর বন্দর (এম.বি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধনের পর এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এরপর দুপুর সোয়া ১ টায় স্কুলটির উদ্বোধন করেন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে যথাক্রমে তিনি মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়িয়া এলাকায় নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় ও ধামগড় ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া দশদোনা এলাকায় শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করে। তিনটি স্কুলই এমপি সেলিম ওসমানের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলনের ডাক আষাঢ়ের তর্জন গর্জনেই সার সেটা গত সাড়ে ৮ বছরে প্রমাণিত হয়ে গেছে। তারা এখন বলছে পেট্রোল বোমার বদলে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আন্দোলন করবে। বিএনপি এখন অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। অস্ত্রের ভাষায় যারা কথা বলে তাদের পরিণতি অত্যন্ত করুণ ও ভয়াবহ। যারা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে তারা ক্ষমতায় এলে কী হবে তা বাংলাদেশের মানুষ ভালো জানে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি কী পেট্রোল বোমা মেরে শত শত মানুষ পুড়িয়ে মেরে ফেলার কথা ভুলে গেছে। বিএনপি আন্দোলনের হাকডাক দিক পেট্রোল বোমার ভয় দেখিয়ে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছে। তাদের আন্দোলনের সক্ষমতা নেই সাহস নেই। জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে জনগণ থেকে বিএনপি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমার তো মনে হয় আবারও তারা সেই বিভীষিকাময় কর্মকান্ডে প্রত্যাবর্তন করে আরো জনবিচ্ছিন্ন হবে। এ ঝুঁকি নিবে কী না এটা বিএনপি সিদ্ধান্ত নিবে।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের টাকা পয়সা অনেকের কাছেই থাকে। অনেকে সেলিম ওসমান সাহেবের চেয়ে ধনী এদেশে আছেন কিন্ত খরচ করার মত মনমানসিকতা নেই। এই স্কুলটি ছিল নাসিম ওসমানের স্বপ্ন। ছোট একটি ঘর থেকে বিশাল কমপ্লেক্স। ৩০ কোটি টাকা নিজের পকেট থেকে একটি স্কুলের জন্য যিনি খরচ করতে পারেন এমন বড় মনের মানুষ বড় মনের টাকাওয়ালা এদেশে খুব কম। পথে পথে আমি তার জনপ্রিয়তার প্রমান পেলাম। এই দুপুর বেলাও হাজার হাজার মানুষ মদনপুর থেকে এই বন্দর পর্যন্ত অপেক্ষমান। ফুল আর ফুল, ফুলের পাপড়ি। অনেক সুন্দর। আমি শুধু এতটুকুই বলতে চাই, একটি ব্রীজের জন্য এত ফুল কেন, একটি ব্রীজের জন্য এত তোড়ণ কেন। একটি ব্রীজের জন্য এত ফুলের পাপড়ি কেন। আমার ছবি দিয়ে এত তোড়ণ কেন। যেখানে যা প্রয়োজন তা করা মন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব। আমি এখানে ফুলের মালা, পাপড়ী নিতে আসিনি। আমি এখানে শত শত ব্যানার, তোড়ণ, বিলবোর্ড দেখতে আসিনি। এই যে ফুল, বাগানের ফুল, এক ঘন্টা কি বড়জোর দুইঘন্টা পর ফুল শুকিয়ে যাবে, ব্যানারের ওই ছবি মুছে যাবে, বিলবোর্ডের ছবি মুছে যাবে, বাগানের ফুল শুকিয়ে যাবে। পাথরে লিখোনা নাম খয়ে যাবে, হৃদয়ে লিখো নাম রয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এই যে তিনি পকেটের টাকা খরচ করে স্কুল করেছেন এটিই হচ্ছে হৃদয়ে লেখা নাম যা রয়ে যাবে। আমি যেখানে বেশি ফুল পাই সেখানে ভয় পাই। কারন ফুল বেশি পেলে আমার মনে হয় এটি ভালোবাসার ফুল নয় স্বার্থের ফুল। কিন্তু জনগনের স্বার্থ হলে আমি গুরুত্ব দেই, নাসিম ওসমান আজকে নেই কিন্তু তার স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ শুরু হয়ে গেছে। এই সেতুর পর এখন আবার আরেকটু সেতুর দাবি উঠেছে। জনগনের সরকার, জনগনের দাবিকে এড়িয়ে যেতে পারেনা। কাজেই এই সেলিম ওসমান সাহেব তিন বছর ধরে আমার পেছনে লেগে আছেন, ঢাকা এলেই আমার পিছু পড়েন, কি দরকার সেতু দরকার।
তিনি আরো বলেন, দেখুন একটি সেতু করতে অনেক সময় লাগে। শীতলক্ষ্যা সেতু আমরা অনেক আগেই করতে পারতাম। এটি বিদেশি প্রজেক্ট। ধাপে ধাপে সবকিছু করতে হয়। একটি ভ্রীজ করতে হলে কতগুলো প্রেসেস লাগে, যেগুলো আমাদের ফলো করতে হয়। প্রথমত সার্ভে লাগে, তারপর আসবে নির্মান প্রক্রিয়া। সেখানে বিদেশী সহযোগিতা লাগে যদি তা না পাই তাহলে আমরা করবো। যদি তার জন্য ফান্ডের প্রয়োজন হয় তাহলে আপনাদের মত বড় মনের ব্যবসায়ী থাকাতে আমরা সাহস পাই। যদি পদ্মা সেতুর মত কোটি কোটির প্রজেক্ট আমরা নিজেরা করতে পারি তবে একটি ভ্রীজও আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে পারবো। বিদেশী সহায়তা না পেলে আমরা চেষ্টা করবো।
আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, প্রথমত আমি খেয়ার স্থানে ফেরী চালু করে দিচ্ছি। আমি মন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরি চালু হবে। আগামী ৮ মাসেই এই সেতু দৃশ্যমান পাবেন না কারন আমি সেই কথা বলবোনা, সেই ওয়াদা দেবনা যেটা রাখতে পারবোনা। কারন এটাই শেখ হাসিনার অঙ্গীকার। জনগনকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর কাজ আমরা করিনা। তবে সেতুর নির্মান কাজ শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী যা করার আমরা করছি। যতটুকু বলা আছে তা হবে আর যা কথা দিয়েছি তা রাখবো।
ছাত্র-ছাত্রীদের বলবো, আজকে সেলিম ওসমানের কাছ থেকে তোমরা যে সুযোগ পেয়েছো সেই সুযোগ যে যত বেশি কাজে লাগাবে সে তত বেশি বড় হবে। শিক্ষা কি জীবিকার জন্য না জীবনের জন্য? শিক্ষা জীবিকার জন্য নয় জিবনের জন্য। পরীক্ষায় পাশ করার শিক্ষা নয়, আমরা সত্যিকারের শিক্ষার্থী চাই। যে শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে সেই আশায় থাকে, সেই শিক্ষা কি কোন কাজে লাগবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে যারা আজকে শিক্ষার ১২ টা বাজায় তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। তাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে হবে। যারা আমাদের মেধাবীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছেন তাদের ধংস করে দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, সত্যকে চাপা দিয়ে লাভ নেই। এখানে দোষীদের ধরে শাস্তি দিতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রের যে উন্নতি তা যেন এই প্রশ্নফাঁস ম্লান করে দিতে না পারে সেজন্য এই প্রশ্ন ফাঁসে যারা জড়ির তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এতে যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের কেউ জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে কারণ এরা আমাদের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তোমরা কি মাদককে ঘৃনা করো? মাদক আমাদের দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি আমাদের অভিভাবকসহ সকলের কাছে বলছি, আপনাদের ছেলেদের সহ আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হবে। এখানে কোন রাজনীতি নেই। মাদক দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকল শত্রু। সবাই মিলে মাদককে না বলতে হবে। এ সময় সকল শিক্ষার্থীদের তিনি মাদককে না বার্তা দিয়ে অঙ্গিকার করান।
শিক্ষার্থীদের বলি, তুমি যদি মুরুব্বিদের সম্মান না করো, তুমি যদি তোমার শিক্ষকদের সম্মান না করো তাহলে তুমি বড় হলে তোমাকেই কেউ সম্মান করবেনা। এখানে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের সম্মানিত ও প্রভাবশালী নেতা। এখানে মহানগর, জেলা আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সকল নেতাদের আমি বলবো আপনারা নারায়ণগঞ্জকে ঐক্যবদ্ধ রাখুন। এখানে সবাই এক থেকে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহ্যকে ধরে রাখেন।
ওবায়েদুল কাদের বলেন, দেশের বিরুদ্ধে আজকে যদি কোন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড চলে, মাদকের মত জঙ্গীবাদও আমাদের অভিন্ন শত্রু। আমি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি এবং সেলিম ওসমান সাহেবের সামাজিকমূলক কর্মকান্ড ও ঊন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অমর হয়ে থাকুক। সামসুজ্জোহা সাহেব আমাদের নেতা। আপনাদের (নারায়ণগঞ্জবাসীর) এই আগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানাই।
বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাব্বী মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, জাতীয় পার্টির জেলার সভাপতি আবু জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, বিকেএমইএর পরিচালক শাহাদাত হোসেন সাজনু, সহ সভাপতি শামীম আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়নাল হক, মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাকসুদ হোসেন, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহাম্মদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় পার্টি এবং বন্দরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

