বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
টানা তিনবার ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ সরকার। হাইব্রিড, কাউয়া, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কীতদের প্রবেশের কারনে দলটি পরেছে বিশৃংখলায়। আওয়ামীলীগের শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে চিন্তিত দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে তালিকা করতে কাজ করছে সরকারের গোয়ান্দা সংস্থা এমনটিই জানা যায় দলীয় সূত্র মতে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোমেন সিকদার। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকেও তার মুখে বিএনপির বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান। তা নিয়ে ফতুল্লা আওয়ামীলীগে বইছে সমালোচনার ঝড়। আলোকিত কাশীপুর নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে মোমেন সিকদার অতিথি হিসেবে বক্তব্য শেষে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান না দিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান। সেই ভিডিওটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন একজন আওয়ামীলীগ নেতা হয়ে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান না দিয়ে বিএনপির বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া মানে আওয়ামীলীগকে অসম্মান করা। যাদের রক্তে আওয়ামীলীগ মিশে আছে তাদের মুখে বিএনপির স্লোগান কখনোই আসবে না। তাদের মুখে সব সময় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান ঠোটের আগায় থাকবে। আওয়ামীলীগ নেতার মুখে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান অশোভন লক্ষন বহন করে।

সূত্র মতে, জিন্দাবাদ স্লোগানটি ফার্সি শব্দ থেকে উৎপত্তি। তৎকালীন পাকিস্তান সময়কালে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতির সময়ও এই স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তারপর থেকে বিএনপির প্রচলিত স্লোগান হিসেবে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগানটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারকে হত্যার পর, ১৯৭৫ সালে বৈঈমান খুনি খন্দকার মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে জয় বাংলা প্রতিস্থাপন করে বাংলাদেশ জিন্দাবাদকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করা হয়েছিল। পরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু এই স্লোগান স্থাপন করা হয়। সেই থেকেই আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানটি ব্যবহার করে আসছে। আর বিএনপি ব্যবহার করছে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মান্নান বলেন, মোমেন সিকদার আমাদের থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে আছেন। ওনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে এটা অবশ্যই গঠনতদন্ত বিরোধী বলা চলে।
দলীয় ফোরামে এটা যদি প্রমানিত হয় এবং থানা কমিটি বরাবর কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এটা সিনিয়রদের সিদ্ধান্তের বিষয়। আওয়ামীলীগের স্লোগান জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীরা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে পারেনা। যাদের রক্তে আওয়ামীলীগ মিশে আছে তারা যেকোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়। আমরা যারা সত্যিকার অর্থে আওয়ামীলীগ করি তাদের রক্তে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানটি মিশে গেছে। আবার অনেকে আছে যারা অর্ধেক আওয়ামীলীগ অর্ধেক বিএনপি তাদের ভিতর থেকে আসল টা বের হয়ে আসে। বক্তব্য শেষে তাদের বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান চলে আসে।
এ বিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ জানান, আওয়ামীলীগের এত বড় পোষ্ট বহন করে তার মুখে বিএনপির স্লোগান শোভা পায় না। ওনার মত সিনিয়র নেতার এই রকম বক্তব্য জ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। তাহলে আমরা ক্ষুদ্রকর্মীরা তাদের কাছে কি শিখবো। আওয়ামীলীগ নেতার মুখে বিএনপির বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান অশোভন লক্ষন।
জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সৌরভ তার ফেসবুক ওয়ালে মোমেন সিকাদারের বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগানের ভিডিও পোষ্ট করে লিখেন, মোমেন সিকদার আপনার নির্বাচনি ব্যানার ফেষ্টুনে থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, আবার আপনার মুখেই বিএনপির সুর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এটা কি মানায় আপনি কোন দলের রাজনীতি করেন সেটা আগে ঠিক করেন।
কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সাত্তার বলেন-এ কথা বলা ওনার উচিত না। ওনি এটা কেন বললো ওনিই নিজেই ভাল জানেন। আওয়ামীলীগ নেতার মুখে বিএনপি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ঠিক না। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ব্যবস্থা নিবো।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমেন সিকদারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তার ফোনটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

