বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আওয়ামীলীগের ভিতর কিছু মানুষ আছে যারা দুর্নীতি করেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।
সিদ্ধিরগঞ্জর নাভানা সিটিতে শুক্রবার (৩১ র্মাচ) বিকেলে দু:স্থ নারীদরে মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি এনসিসি’র মেয়র ডা. সেলিনা হায়ৎ আইভীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের সবাই যে ভালো, তা আমি বলব না। এখানেও কিছু মানুষ আছে যারা দুর্নীতি করেন এবং তা প্রমাণ হওয়ার পর মাফ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কান্না-কাটি করেন যাতে দুদক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারে।
এছাড়া শামীম ওসমান বলেন, সিটি নির্বাচনের আগেও তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কান্না-কাটি করেছেন নৌকা প্রতীকের জন্য। কান্না-কাটি করেই নৌকা প্রতীক এনেছেন। আমরাও নৌকার সম্মানে তার পক্ষে কাজ করেছি। পাসও করেছি। কিন্তিু সেই তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর একজন রাজাকারের ছেলেকে প্রেস ক্লাবে এনে বসিয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখরে বিষয়। নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের অর্থে পরিচালিত কিছু স্থানিয় সংবাদ পত্র আছে, পত্রিকা গুলোর কাজই জনবান্ধব নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তারা আজ আমাকে, কাল নিজাম, পরশু সাজনু, তারপরের দিন আপনার বিরুদ্ধে লিখবে। তাই এদের অপ-প্রচার থেকে আপনারা সচতেন থাকবেন।
সর্বশেষ তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে কে এই স্টেজ তৈরি করেছে, কে টাকা দিয়েছে তা আমার জানা নেই, আমি কিছু নিঃস্বার্থ নেতা পেয়েছি, তাদেরকে আমার কিছু বলতে হয়না। এসময় তিনি চন্দন শীল ও শাহ্ নিজামকে নিঃস্বার্থ নেতাদের অন্যতম বলে উলেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশেনের বাধার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জে আমি কোনো উন্নয়ণমূলক কাজ করতে পারছি না।ফতুল্লায় আমি শতশত কোটি টাকার কাজ করছি কিন্তিু এখানে কোনো কাজ করতে গেলেই তারা বাধা দেয়। তাই কোনো কাজ করতে পারি না। এটাই আমার সব থকে বড় কষ্ট।
অনুষ্ঠানে মহিলা সংস্থার জেলা সভাপতি লিপি ওসমান বলেন, শামীম ওসমান যে চেয়ারে বসেছেন সেই চেয়ারটি আপনাদেরই আমানত, এই আমানত রক্ষার চেষ্টা সবসময়ই তার মাঝে দেখি। তিনি আপনাদের নিয়ে সব সময়ই ভাবেন, তাই আশা করবো আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। লিপি ওসমান আরো বলেন, আপনারা এটা ভাববেন না যে মেশিনগুলো দিয়ে ভোট চাইতে এসেছি, আমাদের উদ্দশ্যে হলো উদ্যোক্তা তৈরি করা। আপনারা যাতে নিজেকে নিজেই প্রতিষ্ঠিদত করতে পারেন।
তিনি আরো বলেন,, নারীদের জন্য অনেক কিছুই করছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তাহলে আপনারা কেন তার জন্য দুই হাত বাড়াবেন না। পরিশেষে তিনি মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে নারীদেরকে সকল ধরণরে সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান নিজেকে দোষি মনে করে বলেন, ১৯৯৬ সালের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী আমরা কোন উন্নয়ন দেখি নাই, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এমপি হওয়ার পর ব্যাপক উন্নয়ণ করেছিল, কিন্তু বর্তমানে সিটি করপোরশেনের বাধায় কোন ধারণের উন্নয়ন করতে পারছেন না তিনি। তিনি আরো বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছিলাম সিদ্ধিরগঞ্জ পৌর সভাকে সিটিতে উন্নতি করা হোক। তারই প্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জ এসেছে ঠিকই, কিন্তু কাঙ্খিত উন্নয়ণ হচ্ছে না। ফলে মাঝে মাঝে নিজেকেই দোষি মনে হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিতেত্ব অনুষ্ঠানে আরও উপস্থতি ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর যুবলীগরে সভাপতি শাহাদাৎ হোসনে সাজনু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি,জেলা ছাত্র্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সানি আহমেদ পরশ প্রমূখ।

