বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গালী জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে। তখন আমরা সকল ধর্মের মানুষ এক কাতারে থেকে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি, আমাদের মধ্যে কোন জাতিগত ভেদাভেদ ছিলো না। কে হিন্দু আর কে মুসলমান-সেই চিন্তা বাদ দিয়ে সবার একটাই লক্ষ্য ছিলো দেশকে স্বাধীন করা। একটি অসম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্যা ওয়াল্ড এর সহযোগিতায় শারি সংস্থা ও বাংলাদেশ দলিত পঞ্চায়েত ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নারায়ণগঞ্জের দলিত সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণে রাষ্ট্র ও আমাদের করণীয় শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে শহরের মন্ডলপাড়াস্থ আলী আহমদ চুনকা পাঠাগারে এই গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরো বলেন, দলিত সম্প্রদায় বলে আপনারা নিজেদেও ছোট করে দেখবেন না। বর্তমান সরকার সকল ধর্ম আর গোত্রের মানুষকে নিয়েই উন্নয়নের মহাসড়কে উঠার পরিকল্পনা করছে। আপনাদেরকেও সেই মিছিলে শরিক হতে হবে। নিজেদেরকে ছোট বলে আপনারা সেই ধারা থেকে পিছিয়ে পরবেন না। আপনারা আছেন বলেই আমরা আজ সুস্থ্য ও পরিচ্ছন্নভাবে সমাজে চলতে পারি। আপনারও সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে অংশগ্রহন করতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদেও পক্ষ থেকে বেকার যুবক-যুবতীদেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই কজের প্রশিক্ষণ, বিউটি পার্লারেরর কাজসহ নানা ধরনের কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয় বিনা মূল্যে। আপনারাও এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারেন। আপনারা স্বাবলম্বী হলে দেশও সয়ংসম্পূর্ণ হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদেও পক্ষ থেকে আপনাদেও জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, দলিত সম্প্রদায় কথাটি ব্রিটিশ আমলে সৃষ্টি হয়েছিলো। তৎকালীণ বৃটিশ সরকার আমাদেরকে শোষন করার জন্য এই জাতিভেদ প্রথার সৃষ্টি করেছিলো। যাতে কওে এই জাতিগত বিভেদের কারনে আমরা নিজেরা কোন্দলে জড়িয়ে পরি আর সেই সুযোগে তারা আমাদেরকে লুন্ঠন করতে পারে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে জমিদারী প্রথা বাতিলের সাথে সাথে এই জাতিভেদ প্রথাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে জাতিগত ভেদাভেদ তুলে ধওে নিজেদেরকে ছোট ভাবার কোনই অবকাশ নেই। দলিত জনগোষ্ঠি বলে আজ আপনারা নিজেদেরকে ছোট ভাবছেন, অথচ ভারতের বর্তমান প্রধাণমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই দলিত সম্প্রদায়ের লোক। নিজ মেধা ও পরিশ্রমের কারনে তিনি আজ ভারতের মতো দেশের প্রধাণমন্ত্রী হতে পেরেছেন। আপনাদেরকেও আর পিছিয়ে থাকলে চলবে না। আপনাদেরকে নিজ মেধা বিকাশের মাধ্যমে সমাজের মূল ¯্রােতের সাথে মিশে যেতে হবে। কে ব্রাক্ষ্মণ আর কে দলিত, এই চিন্তা না কওে ভাবতে হবে আমরা সবাই মানুষ, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
শিখন সরকার শিপন আরো বলেন, একটি স্বাধীন দেশে পূজা উদযাপণ পরিষদ কিংবা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থাকতে পারে না। কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের পেক্ষাপটেই এই সংগঠনগুলির সৃষ্টি হয়েছিলো। আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সকলে মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম একটি অসম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। তখন আমাদের কন্ঠে একটিই বুলি ছিলো আর তা হলো ‘তুমি কে, আমি কে, বাঙ্গালী বাঙ্গালী’। তাই স্বাধীন দেশে আমরা সবাই মূলধারায় থাকতে চাই, সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না।
বাংলাদেশ দলিত পঞ্চায়েত ফোরাম জেলার সভাপতি প্রদীত চন্দ্র দাস’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, সমাজ সেবা কার্যালয়ের শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কেএম শাহরিয়ার রেজা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান সমাজ কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিদুল মিরাজ, মহিলা বিষয় কার্যালয়ের প্রোগাম অফিসার নাজনীন আফরোজ প্রমুখ।
প্রকল্পের সমন্বয়কারী উমেশ সাহার সঞ্চালনায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজিত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিপন চন্দ্র দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া বালা বিশ্বাস।
