বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে নিহত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফজলে রাব্বি এবং সোনারগাঁওয়ে আহমেদ জাফরের লাশ বাড়িতে পৌঁছেছে। দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতন। সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ভূইগড় এলাকার জহিরুল হকের ছেলে ফজলে রাব্বী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড় সন্তান। একমাত্র উপার্জনকারী ফজলে রাব্বীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি।
শুক্রবার ভোর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহত ফজলে রাব্বী লাশ নিজ বাড়িতে আনা হয়। তখন থেকেই আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে আসতে শুরু করেন। শরীর জ্বলসে যাওয়ায় মরদেহ রাখা হয় বাড়ির সামনে লাশবাহী গাড়িতে। দূর-দূরান্ত থেকে তার বন্ধুবান্ধব এবং স্বজনরা বাড়িতে ভীড় জমায় শেষবারের মতো ফজলে রাব্বীর মুখটি দেখতে। পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতন।নিহত ফজলে রাব্বী ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি বি এ পাশ করে ২০১৫ সালে ইউরো ফ্রেড ফরোয়াডিং কোম্পানীতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মকত ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে প্রায় আড়াই বছর বয়সী (দুই বছর চার মাস) হৃদয়ান আহদেমও এখন একমাত্র সন্তান। দুপুর ১ টা ৫৩ মিনিটে পরিবারের সাথে শেষ কথা হয় রাব্বির। ধোয়ার কারনে সে কোথাও বের হতে পারছিলেন না। এরপর আর কোন কথা হয়নি।
নিহতের বাবা জহিরুল হক জানান, মেয়ে ফোন করে জানান বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগেছে। এর পর ছেলেকে ফোন করি। কিন্তু সে জানায় বাবা আমি বের হওয়ার কোন রাস্তা পাচ্ছিনা। যে ফ্লোরে কাজ করি সেখানে আটকা পড়ে আছি। একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ নিহত ফজলে রাব্বীর মা শাহনাজ বেগম পরিবারের অসহায় অবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে পরেছেন। মা শাহানাজ বেগম জানান, সকালে নাস্তা করে অফিসে যাওয়ার সময় বলে মা আমি যচ্ছি।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে প্রায় আড়াই বয়সী শিশু পুত্রের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশায় ভুগছেন স্ত্রী সাবিয়া আক্তার। জীবনে বেচে থাকা আর সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানান স্ত্রী সাবিয়া আক্তার। তিনি বলেন, আমার স্বামীর উপার্জনেই সংসার চলতো। শ্বাশুর তো বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ। তাকে হারিয়ে এখন আমরা কি করবো, কি ভাবে আমার ছেলেকে মানুষ করবো তা বুঝতে পারছিনা।
একই আবেদন জানিয়ে শাশুড়ি সখিনা বেগম বলেন, তিন ঘন্টা পর্যন্ত মোবাইলে ফোন ঢৃুকছে। তার পর আর মোবাইলে তাকে পাইনি। নিহত রাব্বীর বসবাসরত স্থান ভূইগড় ইউুনয়নের দুই নং ওযার্ডের মহিলা মেম্বার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ছুটে যান। তিনিও নিহত ফজলে রাব্বীর সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানান।
শুক্রবার বাদ জুমম্মার পর স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে ভূইগড় কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত রাব্বির লাশ। অপরদিকে সোনারগাও উপজেলার শম্বুপুড়া ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামে আহমেদ জাফরের মরদেহ তার বাড়িতে আনা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে গেছেন পরিবারের সবাই।
