বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের “ম” খন্ড মৌজার ৭/২ নং আরকে গুপ্ত রোড আমলাপাড়ার মাওলা টাওয়ার সহ এই মৌজার জায়গা প্রতারনার মাধ্যমে মালিক সেজে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ ভোগ দখল করে আসছে গোলাম রহমান বেনু গং ও তার বংশ। প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে ইতিমধ্যে অবৈধভাবে এই জায়গায় তৈরি করেছেন বহুতল বিশিষ্ঠ মাওলা টাওয়ার ও অয়েল কারখানা। নারায়ণগঞ্জ সদর এর সহকারী কমিশনার (ভূমি)র অসাধু কর্মচারীদের যোগ সাজসে অন্য জায়গার দাগ নাম্বার দেখিয়ে বেনু গং নির্মান করেন এই টাওয়ার। ভবনের অনেক ফ্লাটও বিক্রি করেন তারা। ক্রয় করে বর্তমানে ফ্লাট মালিকরাও রয়েছে বিপাকে। ফ্লাট নিজেদের নামে নামজারী করতে পারছেন না বলে জানায় কয়েকজন ফ্লাট মালিক। এর পাশেই আবার নতুনভাবে প্রতারনা করে রিহাবের অনুমোদনহীন ডেভোলপার দ্বারা গোলাম পারভেজ গং ফ্লাট নির্মান করে তা জনসাধারনের কাছে বিক্রির পায়তারা চলছে এমনটি অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধান সুত্রে জানাগেছে একই হোল্ডিং এ অবস্থিত মাওলা টাওয়ারের ফ্লাট ক্রেতাগণ ও প্রতারণার শিকার। নিম্নের চাষাঢ়া “ম” খন্ড সি এস খতিয়ান-২৪৪ দাগ নং ৩০৪/৩০৩, এস এ খতিয়ান ৩৪৭ দাগ নং ৬৪৭/৬৫১,আর এস খতিয়ান ১৯৯ দাগ নং ৫৯৯/৬০০/৬০১/৬০২ এর জায়গার প্রকৃত মালিক প্রতাপ চন্দ্র। জায়গার সিএস এ তে রয়েছে প্রতাপ চন্দ্রের নাম। পরবর্তীতে এসএ রের্কড করা হয় তার ছেলে প্রবোধ চন্দ্র এর নামে। কিন্তু আর এস রেকর্ড জরিপের যোগসাজসে গোলাম আহম্মেদ, গোলাম রসুল, গোলাম নবী ও গোলাম রহমান বেনুর নামে রেকর্ড করে নেয়। কিন্তু উক্ত ব্যাক্তিগন ভূয়া দলিলের মাধ্যমে ১৯৮৫ সালে জায়গাটি ক্রয় দেখায়। ১৯৮৫ সালে জায়গা ক্রয় করার পরে তাদের নামে ১৯৭২ সালের জরিপে আর এস রেকর্ডে তাদের নাম আসে। ভূয়া দলিলে যে ফাতেমা বিবিকে দাতা দেখানো হয়েছে। সে যদি সত্যি ১৯৫১ সালের নিলাম খরিদদার হয়ে থাকতো তবে তার নামে আরএস রেকর্ড হতো। তাহলে উক্ত সম্পত্তি খাস ও অর্পিত সম্পত্তি হতোনা। যেহেতু ফাতেমা বিবি একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান সেহেতু মুসলিম সম্পত্তি পরিত্যাক্ত ও অর্পিত হয় না। অত্র সম্পত্তি বহু পূর্বে সরকার পরিত্যাক্ত হিসেবে লিজ দেয়। তখন ছোটন আহাম্মেদ, আইনজীবী মুনিন্দ্র চন্দ্র পাল, দ্বীনেশ চন্দ্র শীল ও গোলাম রহমান বেনু সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বসবাস করে। পরে মুনিন্দ্র ও ছোটনকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করে। দ্বীনেশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ৪ শতাংশ ভূমি থাকার জন্য পায়। তারা বর্তমানে উক্ত জায়গায় বসবাস করছে। উক্ত ‘ম’ খন্ড মৌজার জায়গাটি ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষনা করছে। যা বর্তমানে প্রকৃত মালিক প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখালে জায়গাটি ফেরত পেতে পারে তারা। কিন্তু বর্তমানে গোলাম রহমান বেনু গং ও তার বংশের লোকজন নিজেদের মধ্যে জায়গা ভাগাভাগি করে এবং অনেক ফ্লাট বিক্রি করে দিয়েছে। যা প্রকৃত পক্ষে অনেক বড় প্রতারনা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে এমন প্রতারকদের তদন্ত পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অবৈধভাবে ভোগদখল করা অংশিদার বেনুর ছেলে ছোটন রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি(০১৯৭****৬৬৬) বেশ কয়েকবার ব্যস্ত পাওয়া যায়।

